দাম ভাল পাওয়া দিন দিন টাঙ্গাইলে আখের চাষ বাড়ছে

মো. আবু কাওছার আহমেদ : দাম ভাল পাওয়ায় টাঙ্গাইলে আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক। গত বছরের তুলনায় এ বছর আখের চাষ বেশি হয়েছে। গত বছর ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হলেও এ বছর ৭৮৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। অন্যদিকে রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় এবার আখের ফলনও ভাল হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে আগাম আখ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন চাষীরা। বাজারমূল্য কিছুটা কম হলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় চাষীরা খুশি এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সদর উপজেলার ধরেরবাড়ী, কৃষ্ণপুর, বাঘিল, টাবলাপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আখ কাটা ও বিক্রির। তবে সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে টাঙ্গাইলে আখ চাষ করছেন বলে জানিয়েছেন আখ চাষীরা।

কৃষকরা জানিয়েছে, মাটির আদ্রতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, ভালো জাত নির্বাচন, রোগব্যাধি কম থাকায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ফলন বেশি হয়েছে। আগাম আখ বাজারে আসায় কৃষকরা দামও বেশি পাচ্ছে। এবছর টাঙ্গাইলে অমৃত, রং বিলাশ, ঈশ্বরদী-১.২ সিএসি ২০৮ জাতের আখ রোপন করেছে কৃষকরা। আখ উৎপাদনে ঝুঁকি কম এবং অধিক ফসল উৎপাদন করে বাড়তি টাকা আয় করা যায়। যার কারণে আখের উৎপাদন খরচও কম হয়। এতে করে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে বেশি লাভবান হন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে জানা যায়, এ বছর ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলে জেলায় ৭৮৬ হেক্টর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর, কালিহাতী উপজেলায় ৩০ হেক্টর, বাসাইল উপজেলায় ২ হেক্টর, মির্জাপুর উপজেলায় ৩২ হেক্টর, দেলদুয়ার উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, নাগরপুর উপজেলায় ২৮০ হেক্টর, মধুপুর উপজেলায় ১১ হেক্টর, গোপালপুর উপজেলায় ১২ হেক্টর, ভূঞাপুর উপজেলায় ৫৫ হেক্টর, ঘাটাইল উপজেলায় ১৬ হেক্টর জমিতে আখের চাষাবাদ হয়েছে। তবে ধনবাড়ী উপজেলা ও সখীপুর উপজেলায় কোন আখের চাষ করা হয়নি। গত বছর টাঙ্গাইলের ৫৫৯ হেক্টর জমিতে ২৬ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন আখ উৎপাদন হয়েছিলো।


সদর উপজেলার ধরেরবাড়ী এলাকার কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এক বিঘা জায়গায় এ বছর আখ চাষ করেছি। তাতে আমার ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘা জমির আখ আমি ৮৫-৯০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবো। আমার প্রায় অর্ধেক টাকা লাভ হয়েছে। সরকারিভাবে আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ দিলে আমরা একটু বেশি জমিতে আখ চাষ করে বেশি টাকা লাভবান হতে পারতাম।
কৃষ্ণপুর এলাকার কৃষক মো. খালেক বলেন, এবারের বন্যায় আখের তেমন ক্ষতি হয়নি। কৃষি অফিস থেকে আমাদের তেমন কোন সহযোগিতা করে নাই। কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা করলে আমাদের কাজ করলে আরও বেশি সহজ হতো। কৃষি অফিস থেকে অফিসার আসলেও তারা রাস্তা থেকেই চলে যায়। তারা ক্ষেত পর্যন্ত আসে না।
পাইকারী ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম হিরো বলেন, আমি ১৯৮৯ সাল থেকে আখের ব্যবসায় করছি। ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারী বিক্রি করে থাকি। দাম ভাল হওয়ায় দিন দিন টাঙ্গাইলের কৃষকেরা আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছে। এ বছর আমি প্রতি আখ ৮-১৬ টাকা ধরে কিনে ঢাকা, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল রাজ্জাক, দাম ভাল পাওয়া টাঙ্গাইলে দিন দিন আখ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছরের বন্যায় আখের তেমন কোন ক্ষতি করতে পারেনি। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকের সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Next Post

মধুপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর ধানক্ষেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার

শনি সেপ্টে. ১৪ , ২০১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের মধুপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর ধানক্ষেত থেকে নার্গিস আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নেকিবাড়ী এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মধুপুর থানার এসআই জোবাইদুল হক এতথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নার্গিস উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের নেকিবাড়ী গ্রামের নাসির উদ্দিনের মেয়ে। পুলিশ […]

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur