বাসাইলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে খেলার মাঠ ও বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলের কাঞ্চনপুরের কাজিরাপাড়ায় চলছে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে খেলার মাঠ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বালু তোলার কারণে অনেক ভিটে বাড়ি নদীর গর্ভে চলে গিয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকার পাকা সড়কও আংশিক ভেঙে নদীর গর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোন সুরাহা পায়নি এলাকাবাসি। উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলেও বালু উত্তোলন বন্ধু করতে পারেনি। বালু খেকোরা আইনের তোয়াক্কা না করে পূণরায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করেই যাচ্ছে। তবে উত্তোলনকারীরা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলামের মৌখিক অনুমতিতে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এঘটনায় ভূক্তভোগি ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ঝিনাই নদীর কাঞ্চনপুরের কাজিরাপাড়া এলাকায় মো. জাকির দীর্ঘদিন যাবত ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। সাময়িকীর জন্য বন্ধ রাখলেও দু-একদিনের মধ্যেই পূণরায় আবার বালু উত্তোলন চলছে। প্রশাসন বন্ধ করলেও পূণরায় চালু হওয়ায় ভূক্তভোগিরা ব্যাপক হতাশায় ভূগছেন। বালু উত্তোলনের ফলে ওই এলাকার কাজিরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একটি অংশ ও পাকা সড়ক ছাড়াও আতোয়ার আলী মাস্টার, চাঁন মিয়া, ওয়াজেদ আলী খান, আমজাদ আলী, নয়েজ খান, শাহাদত, মাহফুজ, আজাহার, হালিম, মুনছের, জুয়েল হোসেনসহ ২০-২৫টি পরিবারের ভিটেবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগিরা বারবার ডিসি, ইউএনও ও এসিল্যান্ডের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েও কোন ফল পাচ্ছেন না ভূক্তভোগিরা।

কাজিরাপাড়ার ভূক্তভোগি আতাহার আলী মাস্টার বলেন, ‘প্রতি বছর ড্রেজার দিয়ে জাকির গ্রুপের লোকজন বালু উত্তোলনের কারণে আমার প্রায় ৪০ শতাংশ ভিটেবাড়ি বিলীন হয়ে কিছু জায়গা রয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ দিয়েও ড্রেজার বন্ধ হচ্ছে না। এখনও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে দেদারছে।’

ভূক্তভোগি চাঁন মিয়া বলেন, ‘ড্রেজারের মাধ্যমে আমার প্রায় ১২২ শতাংশ কৃষি জমির মধ্যে ৬০ শতাংশ জমির মাটি জাকিরের লোকজন কেটে নিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ দিলেও ড্রেজার বন্ধ হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে প্রশাসন এসে ড্রেজারের পাইপ ভেঙ্গে দিয়ে চলে যায়। পূণরায় জাকির গ্রুপের লোকজন ড্রেজার চালু করে বালু তুলছে।’
ওই এলাকার শাহাদত হোসেনের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, জাকির বালু তোলার কারণে আমাদের বাড়ির ভিটে ও ২৪ হাত টিনসেড ঘর নদীর গর্ভে চলে গিয়েছে। জাকিরের হাতে পায়ে ধরেও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারিনি। বরং উল্টো প্রাণ নাশের হুমকি দেয় জাকির। আমরা কার কাছে যাবো? কার কাছে অভিযোগ করবো? কে এই বালু তোলা বন্ধ করবে।

অপরদিকে উপজেলার মলিয়ানপুর, বার্থা, হাট বালিয়া, ময়থা, বাথুলীসাদী, তিরঞ্চসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার চলছে দেদারছে। এ বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা আমাকে মৌখিন অনুমতি দেয়ায় আমি বালু উত্তোলন করছি। এর আগে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালালেও পরেরদিন থেকে আবার শুরু করেছি।
বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় ছোট্ট একটি রাস্তার নির্মান কাজ করার জন্য দুই তিন দিনের বালু তোলার অনুমতি দিয়েছিলাম। তবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা মানেই অবৈধ।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুন্নাহার স্বপ্না বলেন, ‘বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ ছাড়াও আমরা নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছি। আমাদের এ ধরনের অভিযান অভ্যাহত থাকবে। বাসাইলের কাঞ্চনপুরের কাজিরাপাড়ায় এর আগেও অভিযান পরিচালনা করেছি। বর্তমানে আবার শুরু করলে তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবো’।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Next Post

আবরার হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

বুধ অক্টো. ৯ , ২০১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক : বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা ছাত্রদল। বুধবার সকালে শহরের নিরালা মোড় শহীদ মিনারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হতে চাইলে পুলিশ তাতে বাঁধা দেয়। পরে পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। মিছিলটি […]

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur