যুক্তরাষ্ট্রে আব্বাসিকে তল্লাশি, ক্ষোভ পাকিস্তানে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসিকে তল্লাশি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা। আর এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন পাকিস্তানের জনগণ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা বলছে, কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও শহিদ খাকান আব্বাসির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে অপমানের অর্থ পাকিস্তানেরও অপমান।

গত সপ্তাহে অসুস্থ বোনের সঙ্গে দেখা করার জন্য নিউইয়র্কে যান শাহিদ খাকান আব্বাসি। জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তল্লাশির মুখে পড়েন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি যে কোট পরেছিলেন, সেটি হাতে ধরে আছেন। আব্বাসিকে গায়ের টি-শার্ট ঠিক করতে দেখা যাচ্ছে। তল্লাশির শেষে এক হাতে কোট, অন্য হাতে নিজের স্যুটকেস টানতে টানতে তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপ্রধানদের কোনো সফরই ব্যক্তিগত নয়। কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তল্লাশি করে শুধু আব্বাসিকে অপমান করেনি মার্কিন প্রশাসন, এটা পাকিস্তানেরও অপমান।

এ সফরে শহিদ খাকান আব্বাসি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে এক অনির্ধারিত সাক্ষাৎ করেন বলে গণমাধ্যমে খবর বের হয়।

পাকিস্তানের জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসাধীন বোনকে দেখতেই যুক্তরাষ্ট্র যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসি। তিনি সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন মানুষ। এর আগেও যুক্তরাজ্য সফরের সময়েও তিনি ট্রেনে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

শাহিদ খাকান আব্বাসির সঙ্গে কেন এমন আচরণ, পাকিস্তানের এমন প্রশ্নের জবাবে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর বলছে, এটা রুটিন তল্লাশি। যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে অনেককেই পড়তে হয়েছে এমন তল্লাশির মুখে। সেই তালিকায় অভিনেতা শাহরুখ খান থেকে শুরু করে অনেকেরই নাম রয়েছে।

তবে আফগানিস্তানের তালেবানদের সহায়তা করে পাকিস্তান—এ অভিযোগে দেশটিকে দেওয়া সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই দুই দেশের মধ্য তিক্ততা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে, পাকিস্তানকে তার দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ কমাতে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, নিউজউইক।

Related Articles