‘বিদ্যুৎ দাও নইলে জীবন নাও,

মধুপুর প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ীতে বিদ্যুতের ভেলকিবাজীতে নাকাল হয়ে পড়েছেন এ দুই উপজেলাবাসী। ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে গড়ে ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহক। অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র ৪ ঘন্টা। তাও আবার রমজানের সেহরী, ইফতার ও তারাবিতে একে বারেই বিদ্যুৎ মেলেনা। ফলে এ এলাকার মানুষের নাভীশ্বাস অবস্থা। লোডশেডিংয়ে ভূক্তভোগি গ্রাহকরা বুকে ‘বিদ্যুৎ দাও, নইলে জীবন নাও’ প্লেকার্ড লিখে রাস্তায় অভিনব প্রতিবাদ করছেন। বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে তোলপাড়।

কেউ কেউ বলছেন লোডশেডিংয়ে সরকারের সুনাম নষ্ট করতেই পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অবস্থার তৈরী করছে। ফলে সরকারের প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে।

লোডশেডিং বর্তমানে মধুপুর ও ধনবাড়ী বাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘন্টার বেশী বিদ্যুৎ থাকে না। যে কারণে মানুষ প্রতিনিয়তই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। পৌরসভায় প্রতিনিয়ত ৪/৫ ঘন্টা এবং ইউপিতে ৩/৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তিতে ফেলছে। ফলে দেখা যাচ্ছে যে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা ঠিকভাবে করতে পারছে না। সারাদিন রোজা থেকে পরিশ্রম করে বাসায় এসে একটু বিশ্রাম নিতে পারছে না। লোডশেডিং থাকার পরেও বিল দিতে হচ্ছে অনেক বেশী। ফলে বিদ্যুৎ বিভাগ হাতিয়ে নিচ্ছে অনেক টাকা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে তিন বার পুরস্কার পেয়ে মধুপুরের ডিজিএম জনগণকে আরো বেশী কষ্ট দিয়ে আবারও পুরস্কারের জন্য বর্তমান সরকারের ক্ষতি করছে। তাতে দেখা যাচ্ছে সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ জনগণ।
শহীদ স্মৃতি রোডের আজহা অফসেট প্রেসের পরিচালক মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, বিদ্যুতের ভেলকিবাজীতে আমরা দিশেহারা। লোডশেডিংয়ের কারণে কাজ তো করতেই পারি না অতিরিক্ত ইলেট্রনিক্স যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে।

মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাপ্পু সিদিক্কী বলেন, বিদ্যুতের পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার কারানেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি উপজেলায় তেমন কোন লোডশেডিং নেই। তারা বলছেন যেখানে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা সেখানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ধনবাড়ী সাব-জোনাল অফিসের এজিএম শাহীনূর রহমান জানান, প্রচন্ড গরমের কারণে সারা দেশেই কিছুটা বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া জামালপুর গ্রিড লাইনে কাজ করার কারনেও কিছুটা সমস্য হচ্ছে। তবে দু একদিনের মধ্যেই এ সমস্যর সমাধান হয়ে যাবে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মধুপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম নূরুল শামছুল হুদা জানান, জামালপুর গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ আসায় দূরত্বের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে বিদ্যুতের এ অবস্থা থেকে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

Related Articles