গোপালপুরে ২০১ গম্বুজ মসজিদে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজ হবেনা

গোপালপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণাধীন সর্বোচ্চ মিনারের পৃথিবীর অদ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট দক্ষিণ পাথালিয়া জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে এবার ঈদুল ফিতর নামাজ হবেনা। নির্মাণাধীন মসজিদটির সৌন্দর্যবর্ধনে অত্যাধুনিক কারুকাজ ও বৈদেশিক টাইলস বসানোর কাজ চলমান থাকায় এবার ঈদের নামাজ জামাতের সাথে পড়ার পরিবেশ নেই। তথ্যটি নিশ্চিত করে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা নির্মাতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক, দানবীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, জনতা ব্যাংক গণতান্ত্রিক কর্মচারি ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ফেডারেশন এর সভাপতি (সিবিএ) এবং জাতীয় শ্রমিকলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বীর-মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের শেষের দিকে মসজিদের কাজ শেষ হবে। এসময় কাবা শরিফের ইমাম মোঃ আব্দুর রহমানের ইমামতির মাধ্যমে মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে গোপালপুর উপজেলা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে নগদা শিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে ঝিনাই নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে পৃথিবীর মানচিত্রে বিরল সৃষ্টির বিশ্বের ঐতিহাসিক কালজয়ী মুসলিম স্থাপত্য ২০১গম্বুজ বিশিষ্ট দক্ষিণ পাথালিয়া জামে মসজিদ কমপ্লেক্স। পৃথিবীর বুকে সুন্দরতম, সর্বাধিক গম্বুজ বিশিষ্ট, সৌসাদৃশ্য, চিত্তাকর্ষক ও আলোচিত এবং আকর্ষণীয় বৃহৎ মসজিদ গুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টিকারি ঐতিহাসিক ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট জামে মসজিদ কমপ্লেক্স। এত বেশি সংখ্যক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ বিশ্বের আর কোথাও নেই। মহান আল্লাহর এ স্বর্গীয় ঘরটি নির্মাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে নতুন করে সুপরিচিতি লাভ করবে এবং এ উপলক্ষ্যে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হবে বাংলার সোনাফলা মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ।

মসজিদটির পাশেই আজান প্রচারের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পাথরের তৈরী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুল ইসলাম মিনার। যা পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে উঁচু ও অদ্বিতীয়। মিনারটির উচ্চতা হবে ৪৫১ ফিট বা ৫৭ তলার সমপরিমাণ। মিনারটি নির্মাণের জন্য ঢাকায় কুর্মিটোলায় অবস্থিত সিভিল এভিয়েশন অথরিটি থেকে ছারপত্র নেওয়া হয়েছে। উঠা-নামার সুবিধার্থে মিনারটির ৫০তলা পর্যন্ত লিফ্ট চলাচলের সুব্যবস্থা থাকবে।

১৫বিঘা জমির উপর এই কমপ্লেক্সে আরো থাকবে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। মিহরাবের দুই পাশে থাকবে লাশ রাখার জন্য হিমাগার। পূর্ণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মসজিদটিতে ফ্যান লাগানো হবে সহ¯্রাধিক। মোট গম্বুজের সংখ্যা হবে ২০১টি। মসজিদের ছাদের মাঝখানে থাকবে ২৫টি গম্বুজের সমপরিমাণ ৮১ফুট উচ্চতার ১টি বড় গম্বুজ এবং চারদিকে থাকবে ১৭ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ২০০টি গম্বুজ। মূল মসজিদের চার কোনায় ১০১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট চারটি মিনার থাকবে। পাশাপাশি আরও ৪টি মিনার থাকবে ৮১ফুট করে উচ্চতা বিশিষ্ট। ১৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪৪ ফুট প্রস্থ’র দ্বিতল বিশিষ্ট মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের দেয়ালে পিতলের উপর সারি সারি ভাবে অঙ্কিত থাকবে ৩০ পারার পূর্ণ পবিত্র কোরআন শরীফ। যে কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে দেয়ালের অঙ্কিত কোরআন শরীফ পড়তে পারবেন। ৫০ মন পিতলের তৈরি নয়নাভিরাম মসজিদটির প্রধান দরজায় মহান আল্লাহর রাব্বুল আলামিনের নিরানব্বইটি নাম স্পষ্টাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। এর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে আলাদা আলাদা ৫তলা বিশিষ্ট ভবন। সেখানে থাকবে দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যের মাতৃসনদ হাসপাতাল, এতিমখানা, হেফজ্খানা, বৃদ্ধাশ্রম, কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা। উত্তর পশ্চিম পাশে নির্মিত ভবনে দেশি-বিদেশি মেহমানদের থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থা সম্মেলিত ডাকবাংলো।

আকাশপথে মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে মসজিদ থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নির্মাণ করা হচ্ছে হেলিপ্যাড। কমপ্লেক্স এর সকল প্রজেক্ট পরিচালনা করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। আর এ জন্যই ১২ বিঘা জমির দুই বিঘাতে হেলিপ্যাড ও বাকি ১০ বিঘাতে নির্মাণ করা হচ্ছে মৎস খামার, গবাদিপশুর খামার ও কৃষি খামার। কল্যাণ ট্রাষ্ট ও খামার গুলোর আয় থেকে প্রজেক্ট গুলো পরিচালনা করা হবে। পশ্চিমে প্রবাহিত ঝিনাই নদী থেকে মসজিদ পর্যন্ত থাকবে সৌন্দর্যবর্ধন সিঁড়ি এবং পারাপারের জন্য নদীর উপর নির্মাণ করা হবে একটি সুদর্শন সেতু। চারপাশে করা হবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান।

মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে। কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুল ইসলামের জননী রিজিয়া খাতুন। প্রায় ৪৫০ শতাংশ জায়গায় নির্মাণাধীন মসজিদের কাজ শেষ হয়েছে। এখন সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য অত্যাধুনিক কারুকাজ ও বৈদেশিক টাইলস বসানোর কাজ চলমান আছে।

Related Articles