ইতিহাসে আজকের দিন (১৮ জুলাই)

আজ (বুধবার) ১৮ জুলাই’২০১৮

কারাগারে ফজলুল কাদের চৌধুরীর মৃত্যু

জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার রাজনীতিক ফজলুল কাদের চৌধুরীর আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৩ সালের এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এ মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক এ নিয়ে বিভিন্ন রকম কথা চালু রয়েছে।

বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ফজলুল কাদের চৌধুরী ’৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেন। দেশ স্বাধীনের পর দালাল আইনে গ্রেফতার হন ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি। নিজ জেলার উন্নয়নে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিত। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, সমাজসেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তার অবদান অনস্বীকার্য। ফকা চৌধুরী নামে খ্যাত ফজলুল কাদের চৌধুরীর জন্ম ১৯১৯ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের গহিরা গ্রামে। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ এবং কলকাতা ইউনিভার্সিটি ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাসের পর ১৯৩৮ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৪১ সালে নির্বাচিত হন নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক । পরের বছর ভারত রক্ষা আইনে গ্রেফতার । পাকিস্তান সৃষ্টি আন্দোলনে ছিলেন খুব লড়াকু। ৫৪ তে স্বতন্ত্রভাবে পূর্ববঙ্গ আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। যুক্তফ্রন্ট সরকার কর্তৃকও গ্রেফতার হয়েছিলেন। ৫৯এ চট্টগ্রাম বন্দরের কমিশনার, ৬২ তে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য, আইয়ুব খানের মন্ত্রী এবং ৬৩ তে জাতীয় পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হন। ৬৬ তে মুসলিম থেকে বহিষ্কার এবং ৬৯-এ কনভেনশন মুসলিম লীগের একাংশের সভাপতি হন।

১৭৮৩ সালের এই দিনে বৃটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্শেল ছায়াপথের প্রকৃতি আবিস্কার করতে সক্ষম হন। তিনি তার নিজের তৈরী দূরবীণ যন্ত্র দিয়েই এ বিষয়ে গবেষণা করতেন। তিনি ইউরেনাস গ্রহের অস্তিত্বও আবিস্কার করেন। মি: উইলিয়াম হার্শেল ১৮২২ সালে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

ফার্সি ১৩৩৩ সালের এই দিনে আয়াতুল্লাহ হোসেন কাশেফুল গ¦াতা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইরাকের নাজাফ শহরে জন্ম গ্রহণ করেন এবং কিশোর বয়সেই ধর্ম বিষয়ক প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর খ্যাতনামা শিক্ষকদের কাছে ধর্ম বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেন। শিক্ষক হিসেবেও তিনি অত্যন্ত সফল ছিলেন। ইসলামী জ্ঞান প্রসারের লক্ষ্যে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। আয়াতুল্লাহ হোসেন কাশেফুল গ¦াতা রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণকে জরুরি বলে মনে করতেন। এ কারণে ইরাকের জাতীয় আন্দোলনে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হবার পর তিনি ইরাকি জনগণের মুক্তি আন্দোলনে যোগ দেন এবং বৃটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তিনি ধর্মীয় বই রচনার পাশাপাশি কবিতাও লিখেছেন।

ফার্সি ১৩৫৯ সালের এই দিনে ইরানি বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক প্রফেসর জালাল উদ্দিন হুমায়ি মৃত্যুবরণ করেন। ফার্সি ১২৭৮ সালে ইরানের ইস্ফাহানে তার জন্ম হয়। তিনি ধর্ম বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান লাভের পাশাপাশি সাহিত্য, দর্শণ ও জ্যোতিবিজ্ঞানে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করেন। পরে তিনি শিক্ষকতা পেশায় মনোনিবেশ করেন। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। ইতিহাস, সাহিত্য ও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে লেখা তার বই এখনও ইরানের বিভিন্ন স্কুল,কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়।

দ্বিতীয় হিজরীর ১৫ই রজব আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানদের ক্বেবলা পরিবর্তন করা হয়। মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা ছিল বায়তুল মোকাদ্দাস। পরে আল্লাহর নির্দেশে তা পরিবর্তন করে মক্কা বা ক্বাবা শরীফকে ক্বেবলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইহুদিরাও বায়তুল মোকাদ্দাস মুখী হয়ে প্রার্থনা করতো এবং এ জন্য মুসলমানদেরকে নানা ধরনের ঠাট্টা-বিদ্রুপ সহ্য করতে হতো। এই ঠাট্টা-বিদ্রুপের কারণে মহানবী হযরত মোহাম্মদ(সা:) সহ সকল মুসলমানই কষ্ট পেতেন। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ফেরেশতা জিব্রাইল, নামাজরত হযরত মোহাম্মদ (সা)-কে ক্বাবার দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং এরপরই মহানবীর উপর ক্বেবলা পরিবর্তনের ওহী নাজিল হয়।

হিজরী ষাট সালের এই দিনে বনী উমাইয়ার নেতা মোয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান মৃত্যুবরণ করেন। রাসূলে আকরাম (সা:)-র হিজরতের ১৫ বছর আগে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন এবং মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলে খোদার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাবের খেলাফতের সময় তিনি শাম বা বর্তমান দামেস্কের শাসক ছিলেন। তিনি চতুর্থ খলিফা ইমাম আলী (আ:)-র বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করেন এবং সিফ্ফিন যুদ্ধের সূচনা করেন। হযরত আলী (আ:)-র শাহাদাতের পরে তিনি নানা কৌশলে ক্ষমতা দখল করেন। মোয়াবিয়া ১৯ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। পরে তিনি তার ছেলে ইয়াযিদকে নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন। ইয়াযিদ মদ পানসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল।

হিজরী ৬২ সালের এই দিনে হযরত আলী (আঃ) ও হযরত ফাতেমা যাহরা (সালামুল্লাহি আলাইহা)’র কন্যা হযরত যেইনাব (সা.) ইন্তেকাল করেন। ষষ্ট হিজরীতে তার জন্ম হয়। শিক্ষিত ও জ্ঞানী হিসেবে সে সময় সর্বত্রই হযরত যেইনাবের খ্যাতি ছিল। ইসলামের এই মহিয়সী নারী কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার সময় তার ভাই ইমাম হোসেইন (আঃ) এর সাথে এজিদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ইমাম হোসেইন ও তার পুরুষ সঙ্গীসাথীদের শাহাদাতের পর হযরত যেইনাবকে অন্যান্যদের সাথে বন্দী অবস্থায় সিরিয়ায় এজিদের দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাল্লাকা যুদ্ধে খ্রিস্টানদের পরাজয় (১০৮৫)
আফ্রিকার মুক্তি আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম (১৯১৮)
পুরুষের মত নারীরও বিবাহ বিচ্ছেদের সমঅধিকার ইংল্যান্ডের রাজকীয় অনুমোদন লাভ (১৯২৩)
হিটলার রচিত মেইন ক্যাম্প এর প্রথম প্রকাশ (১৯২৫)
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতের স্বাধীনতা আইন পাস (১৯৪৭)
মিসর, সিরিয়া ও সৌদি আরব কর্তৃক একযোগে ইসরাইল আক্রমণ (১৯৪৮)
ইরাকের জর্ডানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ (১৯৭১)
ক্ষেপণাস্ত্র বিজ্ঞানী আবদুল কালাম ভারতের ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত (২০০২)

Related Articles