জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের বক্ষব্যাধি বাড়ছে

ম.কণ্ঠ ডেস্ক : মানুষের বক্ষব্যাধি বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। সারাক্ষণ ঘরে এসি চলে। সেজন্য ঘরের জানালা খোলে না, সবসময় জানালা বন্ধ থাকার কারণে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না। এতে শরীর প্রয়োজনীয় অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে রোগ ফিরে আসে বারবার। এজন্য দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন। এ কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

আজ শনিবার রাজধানীর বারিধারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স হলে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও ওরিয়ন গ্রুপের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বক্ষব্যাধি চিকিৎসা পরিস্থিতি: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। ডা. আজাদ বলেন, আমরাই আমাদের প্রকৃতিকে ধ্বংস করে ফেলেছি, বিষয়টি এরকম।

জানালা বন্ধ করে এসি চালানোর কারণে আমাদের অনেকগুলো রোগ এসি মেশিন নিয়ে নেয়। আমরা দীর্ঘ সময় জানালা বন্ধ করে রাখার কারণে সেসব রোগ আবার ফিরে আসে আমাদের মাঝে। কাজেই আমরা আবার অসুস্থ হয়ে পড়ি। অর্থাৎ যখন ঘরের জানালা বন্ধ করছি, প্রকৃতির আলো প্রবেশ করতে দিচ্ছি না, তখন সরাসরি না হলেও আমরা আরামের বিনিময়ে অসুস্থতা ডেকে আনছি। এগুলোই বাস্তবতা। কাজেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে বিভিন্ন ধরনের বক্ষব্যাধি আসছে, সেটা স্বীকার করে নিতে হবে। এটা উন্নয়নের একটি বিষয়। তবে উন্নয়ন স্থিতাবস্থায় আসলে এটি কমে যাবে বলে আশা করতে পারি।

দেশে গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য ফেসবুক তহবিল আহ্বানের বিষয়টি উল্লেখ করে ডা. আজাদ বলেন, যেসব রোগী টাকার অভাবে চিকিৎসা পাচ্ছে না, সাধারণ নাগরিকদের উৎসাহ দিচ্ছি এগুলো আমাদের নজরে আনার জন্য। আনার পরে আমরা যেন সক্রিয় ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে পারি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা এখন রোগ প্রতিরোধের দিকে জোর দিচ্ছি। আমরা ভবন করেছি, যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছি। যদিও এখনো জনবল দিতে পারি না, এ সমস্যা রয়েই গেছে। আদালতের নির্দেশে ১৯৮৫ সালের সামরিক শাসনামলের নিয়োগ বিধি বাতিল করে নতুন নিয়োগ বিধিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে প্রধানমন্ত্রী ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের অনুমতি দিয়েছেন। ৩ আগস্ট ৫ হাজার নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এটি হলে জনবলের ঘাটতি অনেক পূরণ হয়ে যাবে। চিকিৎসকদের ঢাকায় আবাস গাড়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে ঢাকায় থাকার প্রবণতা বেশি। কেউ বাইরে যেতে চান না। আমরা যদি এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, কিছু যদিও মোটিভেশন আসে, তাহলে এ সমস্যার সমাধান করতে পারবো। বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসক ও জনবল এখনো কাজের ক্ষেত্রে সচেষ্ট নয় উল্লেখ করে ডা. আজাদ বলেন, যারা দুর্গম অঞ্চলে কাজ করেন, ভালো কাজ করেন, তাদের যে সম্মানী, একইভাবে যারা শহরে কাজ করেন ভালো কাজ করেন না, তাদেরও একই সম্মানী। এ কারণে আমরা ভালো কাজের দিকে যথেষ্ট মনোযোগী করতে পারছি না। চিকিৎসা সেবায় আমরা ইউরোপিয়ান মডেল প্রবর্তন করার চেষ্টা করছি। এজন্য বিদেশ থেকে কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে এসেছি। স্বাস্থ্য বিমা চালু করা যায় কি-না এসব বিষয়ে কর্মশালা করবো। কারণ সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবার স্বাস্থ্য বিমার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। এজন্য জনগণকে পকেট থেকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর সরকারের উদ্যোগকে জনগণের সমর্থন দিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমাদের দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো বিদেশ থেকে চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়ে আসছে। এটার আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা কড়াকড়ি আরোপ করায় হাসপাতাল মালিকরা বলছেন আমরা রোগীদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে চেয়েছিলাম। সেটা পারছি না। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, যারা বিদেশ যাওয়ার তারা যাবেই। দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. সামিউল ইসলাম, টিবি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবু রায়হান, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও অধ্যাপক প্রফেসর ডা. মো. শাহেদুর রহমান খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ হিরণ, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. একেএম একরামুল হক, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিভাগের প্রধান ডা. আদনান ইউসুফ চৌধুরী, চিকিৎসক নেতা ডা. মো. সাইদুল ইসলাম এবং ওরিয়ন ফার্মার গ্রুপের প্রোডাক্ট ম্যানেজার গোলাম জিলানী মাহবুবে আলম প্রমুখ।

Related Articles