টাঙ্গাইলে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে নিরাপদ মাছের অভাব রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হবে। নিরাপদ মাছের চাষ বাড়াতে হবে।

আজ শনিবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ৪র্থ হয়েছে। এ সাফল্য মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশ্রমের ফল। মাছ মানুষের দেহের আমিষের চাহিদা পূরণ করে থাকে। ছোট জাতীয় মাছ রাতকানাসহ বিভিন্ন রোগের উপকারে লাগে। বক্তারা আরও বলেন, ফরমালিন দ্বারা মাছ যারা বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। এ বিষয়ে মৎস্য ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে হবে। যাতে তারা বাজারে এ মাছ না বিক্রি করেন। মাছ ভাতে বাঙ্গালী এ কথাটি স্মরণ রেখে আমাদের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। মুরগির খামারের বিষ্ঠা মাছের খাবার হিসেবে প্রযোজ্য নয়। এ খাবার যে মাছ খায় ওই মাছ দিয়ে গন্ধ হয়। মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে মূল্যায়ন সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আশরাফুল মমিন খান। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র তথ্য অফিসার কাজী গোলাম আহাদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারি পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, দৈনিক মজলুমের কণ্ঠের সহকারি সম্পাদক এস এম আওয়াল মিয়া, টাঙ্গাইল সদরের দরিদ্র মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ একদিল হোসেন ও ঘাটাইলের সফল মৎস্য চাষী দেলোয়ার হোসেন লেবু।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশীদ। শেষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ৫জন সফল মৎস্য চাষীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন। সফল মৎস্য চাষীরা হলেন ধনবাড়ী উপজেলার খাদিমুল ইসলাম (মনোসেক্স তেলাপিয়া), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সাকরাইলের মোঃ মিজানুর রহমান (কাপ-জাতীয় মাছ চাষ), শ্রী সাধন কুমার দাস (মৎস্যজীবী সংগঠক), মোঃ একদিল হোসেন (মৎস্যজীবী সংগঠক), ঘাটাইল উপজেলার মোঃ দেলোয়ার হোসেন লেবু (মাছ চাষ)।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক মোঃ মোখলেছুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ উদ্দিন ও ক্ষেত্র সহকারি মোঃ সাইদুর রহমানসহ বিভিন্ন মৎস্য খামারের খামারী ও চাষীরা। সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল সংবাদ সম্মেলন, মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন, র‌্যালী, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, সরকারি কুমুদিনী কলেজে ছাত্রীদের মাঝে মৎস্য চাষ বিষয়ক আলোচনা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, হাট-বাজারে মৎস্য চাষ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভা, ভিডিও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, ফরমালিন বিরোধী অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, মৎস্য মেলা ও পুরস্কার বিতরণ।

Related Articles