টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকার পরও চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকার পরও কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিরা আফরোজ তা প্রয়োগ না করায় সাপে কাটা রোগী আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। অবহেলার জন্য ওই চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।

শনিবার টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। নিহত আবু সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম শান্ত। তিনি জানান, গত সোমবার (১৬ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে তাদের কালিহাতী উপজেলার চরভাবলা গ্রামের বাড়িতে তার বাবা আবু সাঈদকে (৬০) সাপে দংশন করে। তাকে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মনিরা আফরোজের অধীনে তাকে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর মনিরা আফরোজ জানান হাসপাতালে সাপে কাটার ভ্যাকসিন নেই। পরে আবু সাঈদের পরিবারের লোকেরা টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন এবং হাসপাতালের সহকারি পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। কিন্তু তারপরও চিকিৎসক মনিরা আফরোজ রোগীকে ‘এন্টি স্নেক ভেনম’ ভ্যাকসিন দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে ময়মনসিংহ অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন এবং রোগীর স্বজনদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।

লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম শান্ত অভিযোগ করেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনথাকা সত্ত্বেও প্রথমে ডা. মনিরা ভ্যাকসিন থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাপে পরে ভ্যাকসিনের কথা স্বীকার করলে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে তার বাবাকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ না করে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেন। এজন্য তিনি ডা. মনিরা আফরোজের শাস্তি দাবি করেন। তার বাবার মৃত্যুতে শহিদুল ইসলাম শান্ত নিজে বাদি হয়ে চিকিৎসক ডা. মনিরার বিরুদ্ধে আজ রোববার টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক ডা. মনিরা আফরোজ জানান, ‘এন্টি  স্নেক ভেনম’ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলে নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেদিন হাসপাতালে হৃদরোগ চিকিৎসক ছিলেন না। তাই রোগীকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়নি।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান মজলুমের কণ্ঠকে বলেন, আমি ওই ডাক্তারকে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে বলেছিলাম। ভ্যাকসিন না দেওয়ার কারণে রোগীর মৃত্যু অত্যন্ত দু:খজনক। অবশ্যই ডা. মনিরা আফরোজের এ বিষয়ে অবহেলা রয়েছে। কারণ তিনি প্রথমে স্বীকার করেননি ভ্যাকসিন আছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহত আবু সাইদের স্ত্রী শরিফা বেগম, ছোট ছেলে সোহেল রানা, মেয়ে শান্তা ইসলাম, টাঙ্গাইল স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রমুখ।

Related Articles