বাস চাপায় ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু: ২ বাসচালক ও ২ সহকারী গ্রেফতার

ম.কণ্ঠ ডেস্ক : রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই বাসচালক ও দুই সহকারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এসব বাসের কোনটির চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে তা তদন্তে জানা যাবে। তবে এসব বাসের চালক এবং সহকারীদের গ্রেফতার অভিযান চালানোর পর্যায়ে দুই জন চালক এবং দুইজন সহকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় এবং কখন তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে সে ব্যাপারে তাৎক্ষনিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি এই র‌্যাব কর্মকর্তা। মুফতি মাহমুদ বলেন, আমরা বিস্তারিত পরে জানাবো।

গত রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার পথে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের মানবিক শাখার দ্বাদশ শ্রেণির আবদুল করিম এবং একাদশ শ্রেণির দিয়া খানম। ঘটনার পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে।

এঘটনায় গত রোববার রাতে দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ক্যান্টনমেন্ট থানায় জাবালে নূর পরিবহনের বিরুদ্ধে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিয়াদ আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় একজন গ্রেফতার আছে। এখন শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে কলেজে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে, বাসের নিচে চাপা পড়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের এলাকায় শিক্ষার্থীরা ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের দুই দিক অবরোধ করে রেখেছে বলে ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই উম্মে সালমা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এদিকে বেলা ১২টার দিকে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা মিরপুর সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে তাদের তুলে দেয়। নিউ মার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করলে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট: রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জনস্বার্থে আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল রিটটি দায়ের করেন। এর আগে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় আহতদের যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের খোঁজ নিতে বলেছেন হাইকোর্ট। বাসচাপায় হতাহতদের বিষয় আদালতের নজরে আনলে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে এই আদেশ দেন। আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদা ইয়াসমিনকে আহতদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আদালতকে অবহিত করতে বলেন। শুনানির শুরুতে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসচাপা দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, আমি নিজেই জনস্বার্থে এ বিষয়ে আবেদন করেছি। আবেদনে বাসচাপা দেওয়ার ঘটনার যথাযথ তদন্ত, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছি। আদালত বলেন, আপনি আপনার আবেদন এফিডেভিট আকারে আদালতে দুপুর ২টার পরে উপস্থাপন করুন। গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের সামনে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের শেষ প্রান্তে দুই বাসচালকের রেষারেষিতে প্রাণ হারায় দুই কলেজছাত্র। আরো কয়েকজন আহত হয়। তাদের পাশের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত দুজন হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আবদুল আহাদ ও ডিএমপির ট্রাফিক উত্তরের উপকমিশনার প্রবীর কুমার দাস জানান, মিরপুর-উত্তরা রোডের জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস মিরপুর থেকে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে আসছিল। এ সময় ফ্লাইওভারের শেষ দিকে, রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল একদল শিক্ষার্থী। বাসটি ফ্লাইওভার থেকে নেমেই দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ এমইএইচ বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে খিলক্ষেত পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে দুই পাশের সড়কে শতাধিক যানবাহনের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। গতকাল সোমবারও রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক, মিরপুর সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা।

Related Articles