ভূঞাপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মাঝে মাঝে আসেন এসএসিএমও সাইফুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফলদা ধুবলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অফিস না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে কার্যদিবসের তিনদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ সাইফুল ইসলাম ১০দিনের একদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। আর যারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকেন তারা ওষুধ দেয় না।

জানা গেছে, ফলদা ধুবলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) সাইফুল ইসলাম ১০দিন পর একটু সময়ের জন্য অফিসে এসে রোগীদের সাথে সেলফি তুলে ঘন্টাখানেক পরই চলে যান।

যদিও নিয়ম অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অফিস করার নিয়ম থাকলেও সেটা মানছেন না সাইফুল ইসলাম। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে (টিএফপিও) ম্যানেজ করে দিনের পর দিন তিনি অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ আছে সাইফুল ইসলাম অফিস বাদ দিয়ে তার মালিকানাধীন ফাদিয়া ক্লিনিক ও জহুরা মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামের দুইটি ক্লিনিকের ব্যবসা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন।

যেদিন তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান সেদিন রোগীদের সাথে একাধিক ছবি তুলে পরবর্তিতে অফিসে না গিয়ে প্রতিদিন তার ব্যবহৃত ফেসবুক একাউন্টে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য সেগুলো পোষ্ট করেন।

এদিকে স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় লোকজনগুলোকে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মাঝে মাঝে অফিস করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে কোন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় না। কেন্দ্রে গেলে ওষুধ নাই বলে জানানো হয়।

ধুবলিয়া গ্রামের আকাব্বর জানান, সপ্তাহে একদিন আসে সাইফুল। আবার পনের দিন আর কোন খবর থাকে না। আর যখন আসে সাথে কয়েকজন লোকজন নিয়ে কেন্দ্রে আসা রোগীদের সাথে ফটো তুলেন। যেদিন আসেন কিছুক্ষন থেকে চলে যায়। ওষুধ পাওয়া যায় না এখানে।

একই গ্রামের আব্দুল আলিম জানান, আগে যে ডাক্তার ছিল সেই ভাল ছিল। প্রতিদিনই আসতো। আর এখন যিনি আসে তিনি মাঝে মাঝে আসেন। এমন ব্যস্ত ডাক্তার দরকার নাই। অনেক গরীব মানুষ আসে এই কেন্দ্রে কিন্তু চিকিৎসা না পেয়ে চলে যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ফলদা ধুবলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) সাইফুল ইসলাম জানান, সপ্তাহে দুইদিন ক্যাম্প থাকে। নিয়মিতই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে অফিস করি। যতটুকু ওষুধ বরাদ্দ থাকে সেই অনুযায়ী ওষুধ রোগীদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়।

উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিনিয়তই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র পরিদর্শন করি। যেদিন তিনি মাঠ পরিদর্শন করেন সেদিন হয়ত কেন্দ্রে থাকেন না। তারপরও তিনি যদি নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না যান তাহলে তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles