মধুপুরে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী লিজার ধর্ষন ও হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী লিজাকে ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।

আজ রবিবার (১৫ জুলাই) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত লিজার বাবা মো. মিজানুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহত লিজার মা রহিমা বেগম, ভাই মো. রনি মিয়া ও বোন জামাই মো. সুমন মিয়া।

নিহত লিজার বাবা মো. মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, মধুপুর থানায় মামলা দায়েরের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গাছাবাড়ী এলাকার মো. আব্দুল মালেকের ছেলে ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে রানা (২২), মিঠু খানের ছেলে রাশেদ খান ওরফে রাসেল (১৫), শামসুল হকের ছেলে মো. আমজাদ হোসেন (২৮) কে আটক করে জেলা হাজতে প্রেরণ করে।

পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড দাবি করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েও বিশেষ কারণে প্রকাশ করছে না।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের জন্য আটককৃতরাই দায়ী। মধুপুর থানা পুলিশ আসামীদের পক্ষে মোটা অঙ্কের টাকা উৎকোচ পেয়ে মূল ঘটনা অন্য দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছে। এলাকার কেউ নির্যাতিতদের পক্ষে কথা বললেই পুলিশ তাকে নানা ভাবে হয়রানি করে ও লিজা ধর্ষন এবং হত্যা মামলা ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও সংগঠন আন্দোলনের উদ্যোগ নিতে চাইলে পুলিশ সেখানেও অজ্ঞাত কারণে বাধা সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৫ মে) গাছাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিজা আক্তার (১১) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গোসলের উদ্দেশে বের হয়। তার পর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওই রাত প্রায় ৯টার দিকে বাড়ির পাশে বাঁশ ঁঝাড়ে কলাপাতা মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। লিজার নিথর দেহে ক্ষত ও কাপড়-চোপড় ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তার অবস্থা থেকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। পরে শনিবার (২৬ মে) নিহতের পিতা মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

Related Articles