মির্জাপুরে শিশু সন্তানকে বাঁচাতে বাবার আকুতি

মির্জাপুর প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সমর কর্মকার জন্মের পর থেকেই হার্টের সমস্যায় ভূগছেন।

সে মির্জাপুর উপজেলার বরাটি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। তার বাড়ি উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বরাটি গ্রামে।

ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবা শংকর কর্মকার ভিটে বাড়ি বিক্রি করেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে জানা গেছে। ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবা মা কালিয়াকৈরের কোনাবাড়ি এলাকায় দুই ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করছেন বলে জানা গেছে।

হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু সমর কর্মকারকে (১১) বাঁচাতে বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন শিশুটির গার্মেন্টস শ্রমিক বাবা শংকর কর্মকার ও মা রেখা রানী কর্মকার।

জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বরাটি গ্রামে শংকর কর্মকার পরিবার নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। জন্মের এক বছর পর ছেলে সমর কর্মকার হার্টের রোগে আক্রান্ত হয়। ২০০৮ সালে ঢাকার ধানমন্ডি ক্লিনিকে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তার হার্টের সমস্যা নিশ্চিত করেন।

পরে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও তার একই রোগের কথা জানান। দেড় বছর আগে তিনি টাঙ্গাইল সদরের দেশবন্ধু হাসপাতালের চিকিৎসক তাপস কান্তি ভৌমিকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করাতে থাকেন।

ভিটে বাড়ি বিক্রি করে শংকর কর্মকার ছেলে সমরের চিকিৎসা করাতে থাকেন। এক সময় তিনি সব বিক্রি করে নি:স্ব হন। ভাই বোন ও আন্তীয়স্বজনের সহযোগীতায় ছেলের চিকিৎসা অব্যাহত রাখেন বাবা। সর্বশেষ ছেলের চিকিৎসার জন্য বাবা মা গার্মেন্টস এ চাকুরী নিয়েছেন।

সমরের বাবা শংকর কর্মকার জানান, সমর জন্মের এক বছর পর হার্টের রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ দশ বছর ধরে ছেলেকে সুস্থ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি এখন নির্বিকার। ছেলের চিকিৎসা চালাতে তারা স্বামী স্ত্রী গার্মেন্টস এ চাকুরী নিয়েছেন। মাস শেষে যে টাকা বেতন পান তাতে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলেকে বাঁচাতে বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।

হার্টের সমস্যার পাশাপাশি পাশের দুইটি রগে জোড়া লেগেছে। এতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন। তিনি অর্থের অভাবে সন্তানের অপারেশন করাতে পারছেন না বলে জানান।

ফলে তার শারীরিক বিকাশ ঘটছে না। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। অপারেশনের করতে প্রায় চার লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এমতবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিক বাবা মার পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।

তাই তিনি সমাজের বৃত্তবান মানুষের কাছে সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

সমরের চাচা সঞ্জিত কর্মকার জানান, ভাই শংকর কর্মকার অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তিনি সমরকে তার কাছে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পারলেও তার সাধ্যমত চিকিৎসা করাচ্ছেন। টাকার অভাবে সমরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং অপারেশন করাতে পারছেন না বলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।

সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা :
সূর্জয় কর্মকার
ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং ০১৭৭১৯৩০৮৩৬৯
মোবাইলঃ ০১৭১৪৩২১৪৯৭।

Related Articles