টাকার লোভেই বাসাইলের অনুল বেগমকে হত্যা করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাকার লোভেই অনুলকে হত্যা করে জুনু খান। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার পাটখাগুরি গ্রামের বিধবা অনুল বেগমকে হত্যার জন্য জুনু খানকে এক লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন ওই গ্রামেরই এক ব্যক্তি। টাকার লোভেই জুনু খান অনুল বেগমকে হত্যা করে।

বিধবা অনুল বেগমের হত্যাকারী জুনু খান

জুনু খান  গত (৩১ জুলাই) শনিবার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান। জুনু খান পাটখাগুরি উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্বাস আলী খানের ছেলে। শনিবার তাকে ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকা থেকে বাসাইল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

গত ৬ জুলাই অনুল বেগম (৪৮) তার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিনদিন পর পার্শ্ববর্তী জীবনেশ্বর গ্রামের একটি পতিত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১০ জুলাই অনুল বেগমের মেয়ে ঝুমা আক্তার বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে বাসাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। অনুল বেগমের ছেলেরা প্রবাসী। একমাত্র মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়ি। তাই অনুল বেগম বাড়িতে একাই বসবাস করতেন।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়  সোমবার (৬ আগাস্ট) দুপুরে তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন কৌশল এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত জুনু খানকে চিহিৃত করা হয়। পরে গত শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ি নিহত অনুল বেগমের মুঠোফোন সেট, সিম কার্ড, স্বর্ণালংকার এবং লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত নৌকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতের জবানবন্দিতে জুনু খান জানিয়েছেন, তিনি ৫ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে অনুল বেগমের বাড়িতে আম গাছের নিচে মাচায় বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত চারটার দিকে অনুল বেগম প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে বের হলে জুনু খান তার ঘরে (অনুল বেগমের) ঢুকে পড়ে। পরে অনুল বেগম ঘরে ফেরার পর লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ওইদিন অনুল বেগমের লাশ ঘরে তালা দিয়ে চলে আসেন। পরদিন রাতে আবার সেখানে গিয়ে লাশ নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। পরে নৌকাযোগে জীবনেশ্বর গ্রামে পতিত জমিতে ফেলে দিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, জুনু আরো জানিয়েছেন ওই গ্রামের এক ব্যক্তি অনুল বেগমকে হত্যা করার জন্য তাকে এক লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলো। তিনি অগ্রিম দুই হাজার টাকাও নিয়েছিলেন। কিন্তু হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে টাকা দিতে চাওয়া ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান।

Related Articles