টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা ইউনিয়নে বিনামূল্যের চাউল বাজারে বিক্রির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা ইউনিয়নে ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে সরকারি বিজিএফ’র চাউল বিতরনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান রহুল আমিন খান খোকনের বিরুদ্ধে। নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরী করে বিনামূল্যের চাউল অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন ওই চেয়ারম্যান।

রোববার সকালে সরেজমিন ইউনিয়ন পরিষদে গিযে দেখা যায়, বিনামূল্যে চাউল নিতে আসা লোকজনের দীর্ঘ লাইন। এদের মধ্যে কেউ চাউল পাচ্ছেন আবার কেউ পাচ্ছেন না। এসময় কথা হয় সুরুজ গ্রামের রনি বেগমের সাথে। তিনি জানান, চেয়ারম্যান তার পছন্দের লোকদের চাউল দিচ্ছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যারা অসহায় গরীব তাদের কোন চাউল দিচ্ছেন না। আবার যারা চাউল নিচ্ছেন তারা ইউনিয়ন পরিষদেই প্রতিজনের জন্য বরাদ্দ ২০ কেজি চাউল ৩০০টাকা দরে বিক্রি করে দিচ্ছেন চেয়ারম্যানের লোকজনের কাছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১০ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট) রোববার পর্যন্ত আগামী ঈদুল আযহা উপলক্ষে পুরো ইউনিয়নে দুই হাজার ৯০০জনের মধ্যে সরকারের বরাদ্দকৃত ৫টন চাউল বিতরন করা হয়েছে। গত তিনদিনে চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানেই এই চাউলগুলো বিতরন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাউল নিতে আসা ৯নং ওয়ার্ডের এক নারী জানান, বিনামূল্যে প্রতিজনকে ২০ কেজি করে চাউল দেয়ার কথা। কিন্তু তিনি যে চাউল পেয়েছেন তা স্থানীয় একটি দোকানে মেপে দেখেন তার বস্তায় ১৬ কেজি চাউল রয়েছে। একই অভিযোগ ৩নং ওয়ার্ডের জরিনা বেগমের। তিনি চাল পেয়েছেন ১৭ কেজি। তারা দুইজনেই ইউনিয়ন পরিষদেই চাউল বিক্রি করে দিয়েছেন এক চাউল ব্যবসায়ীর কাছে।

কান্দিলা গ্রামের ভ্যান চালক মোবারক হোসেন। তিনি তার ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছেন আট বস্তা চাউল। তার এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে প্রথমে এরিয়ে যেতে চান, পরে তিনি জানান, চাউলগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এগুলো স্থানীয় একটি বাজারের ব্যবসায়ী প্রতি জনের বরাদ্দকৃত চাউল ৩০০ টাকা দরে কিনে নিয়েছেন।

স্থানীয় এক চায়ের দোকনদার জানান, এখানে যারা চাউল নিতে এসেছেন, সবাই স্বচ্ছল। কেউ নিজস্ব জমির চাউল খায়, আবার কারো রয়েছে ভালো ব্যবসাও। তাদের এখানে চাউল নিতে এসে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন।

এদিকে সকালে চাউল বিতরনের ছবি তুলতে গেলে চেয়ারম্যানের অনুসারিরা বাধা দেয়। এসময় তারা জানান, অনুমতি ছাড়া চাউল বিতরনের ছবি তোলা নিষেদ।

এ বিষয়ে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন খান খোকন জানান, প্রতিজনের জন্য ২০ কেজি করে চাউল বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দেড় কেজি চাউল কম যেতে পারে কারন তারা যেখান থেকে চাউল আনেন, সেখান থেকে আনতে বস্তা ছিরে যাওয়ার কারনে অনেক চাউল পড়ে যায়। এ কারনে প্রত্যেককে চাউল কম দিতে হচ্ছে। তবে বিনামূল্যের চাউল বাইরে বিক্রি করার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

Related Articles