বিএনপি ভোটে না এলে আ. লীগের কিছুই করার নেই: ওবায়দুল কাদের

ম.কণ্ঠ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তা হলে নির্বাচনের ট্রেন থেমে থাকবে না। বিএনপি যদি আগামি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, আওয়ামী লীগের তাতে কিছু করার নেই।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ইভিএম ব্যবহার দেশের নির্বাচন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ট্রেন কি থেমে থাকবে কোনো একটা দলের জন্য। বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি, সেটা তাদের ভুল। সে ভুলের মাশুল তাঁরা আজো দিচ্ছেন। সেই ভুলের জন্য যাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের অপরাধটা কোথায়? সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ফ্রি, ফেয়ার নির্বাচন করেছে। এখন একটা দল নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের একটা ফাঁদ তৈরি করেছিল। সেটা তো সংবিধানের দোষ নয়। সেটা তো যাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, ওই ফাঁদের মধ্যে আটকা পড়ে, সেটা তো তাঁদের দোষ নয়। ইলেকশনে তো যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এখন আপনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে গেলেনৃ এমন যদি হতো বিএনপি তখন নির্বাচনে যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাতে না করতে পারে, সে জন্য কেউ বাধা দিয়েছেন এ রকম অভিযোগ তো নেই। তা হলে আমাদের বিরুদ্ধে কেন এ অপবাদ? পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন ওবায়দুল কাদের। জনগণের ওপর যাদের আস্থা নেই, তারা অজুহাত খুঁজে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরো বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের চেয়েও বেশি দরকার নিরপেক্ষ ইলেকশন কমিশন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাঁদের দরকার নির্বাচনটা নিরপেক্ষ হবে কি না? নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাঁদের ভয় কোথায়? ইভিএম নিয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির বিষয়টিকে ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য’ হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তো পাঁচজনকে নিয়ে। পাঁচজনের মধ্যে একজন নোট অফ ডিসেন্ট দিতেই পারেন। ভিন্নমত থাকতেই পারে। এটাই তো গণতন্ত্রের বিউটি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্য ছাড়া সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না বলে এতদিন বলে আসছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রাখার জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের উদ্যোগ নিতে গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসে ৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশন। বৈঠকের শুরুতেই সংসদ নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বেরিয়ে আসেন মাহবুব তালুকদার। তবে অন্য তিন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে বৈঠক চালিয়ে যান সিইসি নূরুল হুদা। সভা শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতের ভিত্তিতে ঠিক করেছে- জাতীয় নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সেজন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংস্কারের পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, আরপিও সংশোধন হোক- তা চাননি বলেই তিনি কমিশন সভা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। আমি মনে করি, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কারণ, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএম চায় না। তার এই আপত্তি এবং সভা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশনে ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ’ থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখাতে চান ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনেও গণতন্ত্র আছে। নোট অব ডিসেন্ট দেওয়ার অধিকার তার আছে। এর জন্য জটিলতা তৈরি হবে কেন? একজনের মত যেমন আছে, গণতান্ত্রিক ধারায় বাকি চারজনেরও মত আছে। তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, যাদের শক্তি, সামর্থ আছে, জনগণের প্রতি আস্থা আছে, জন সমর্থনের ব্যাপারে যারা কনফিডেন্ট, তারা এত শর্ত আরোপ করে না। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি বলে আসছে, দুর্নীতি মামলার সাজায় কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে না নিলে ‘দেশের মানুষ’ কোনো নির্বাচন হতে দেবে না।

এ প্রসঙ্গে ১৯৭০ এর নির্বাচনের ইতিহাস টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে সময় বঙ্গবন্ধু কোনো শর্ত করেননি, কারণ জনসমর্থনের প্রতি তার গভীর আস্থা ছিল। আর বাংলাদেশের এখনকার পরিস্থিতিও সে রকম নয়। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার দেশের নির্বাচন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। ইভিএম এ নির্বাচনী ফলাফল টেম্পারিং করা অসম্ভব।

Related Articles