এমপি রানার জামিন নামঞ্জুর : পুলিশের লাঠিচার্জ, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে জেলা আ’লীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় সরকার দলীয় সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাকসুদা খানম এ আদেশ দেন। এছাড়া আদালত এ মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ২৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন।

এরআগে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানমের আদালতে সকাল পৌনে ১১টায় শুধুমাত্র জামিন আবেদনের উপর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। জামিন শুনানীর পর বিকাল ৪ টায় রায় ঘোষণার সময় ধার্য করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় এমপি রানাকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলী মনিরুল ইসলাম মনি ও অ্যাডভোকেট এস আকবর খান জানান, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় সাক্ষী না আসায় আদালত মামলার পরবর্তী দিন আগামি ২৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন। একই মামলার প্রধান আসামি এমপি রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এমপি রানার জামিনের শুনানীকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। এমপির সমর্থকদের একটি মিছিল আদালতের দিকে আসার সময় জেলা সদরের শামছুল হক তোরণের সামনে পুলিশ বাঁধা দেয়। এ সময় এমপি রানার সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে এমপি’র সমর্থকরা পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে আদালত চত্ত্বরের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে এমপি’র সমর্থকরা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গেটের সামনে আবার সমবেত হতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া করে। এ সময় মক্কা-মদিনা কনফেকশনারীতে থাকা যুবক মাজাহার হোসেন তমাল পুলিশকে লক্ষ্য করে পিস্তল বের করলে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আশরাফ তাকে ধরে ফেলে। এ সময় এমপি রানার কয়েক ক্যাডার দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি ও ২টি ম্যাগজিন সহ এমপি রানার সমর্থক মাজাহার হোসেন তমাল ও রাইসুল ইসলাম রাব্বীকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় নাশকতায় জড়িত ৬জন গ্রেপ্তার ও ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরো ৩জনকে আটক করা হয়েছে। এরআগে শামছুল হক তোরণের পাশে ফেলে রাখা দুইটি চাইনিজ কুড়াল, দুইটি হাতুঁড়ি, চারটি রড, দুইটি বাটাল(গুলতি) পুলিশ উদ্ধার করে।

অপরদিকে, এ হত্যা মামলায় জড়িত এমপি রানা সহ তার ভাইদের ফাঁসির দাবিতে আওয়ামী পরিবারের ব্যানারে শহরে খন্ড খন্ড বিক্ষোভ মিছিল করে এবং তারা আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেয়।

বুধবার বেলা ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, এ মামলায় এমপি রানার জামিনকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দুই শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করায় জেনারেল হাসপাতালের গেট সংলগ্ন মক্কা-মদিনা কনফেকশনারী থেকে বিদেশি পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি ও দুইটি ম্যাগজিন সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া কিছু দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় এমপি রানা ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪জন আসামি রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

Related Articles