রাজধানীর অব্যবহৃত ফুটওভারব্রিজগুলো সঠিক স্থানে পুননির্মাণের উদ্যোগ

ম.কণ্ঠ ডেস্ক : রাজধানীর বেশিভাগ ফুটওভারব্রিজই পথচারীরা ব্যবহার করেন না। গুরুত্বপূণ স্থানের ফুটওভারব্রিজগুলো ছাড়া অন্যগুলোতে মানুষ উঠে বললেই চলে। মূলত যথাযথ স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মিত না হওয়ার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ওসব ফুটওভারব্রিজলোক পারাপারের স্থান থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে। এমন পরিস্থিতিতে ফুটওভারব্রিজগুলো লোক পারাপারের যথাযথ স্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। খুব অল্পসময়ের মধ্যেই ওই কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি ফুটওভারব্রিজগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীতে বর্তমানে ৮৭টি ফুটওভারব্রিজ রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে ৩২টি ও ঢাকা উত্তরে ৪৯টি। ডিএনসিসিতে আরো ২টি নির্মাণাধীন এবং নির্মাণের পরিকল্পনায় আছে আরো ৩টি ফুটওভারব্রিজ। তাছাড়া সংস্থাটির আওতায় রোড অ্যান্ড হাইওয়ের ৫টি এবং রাজউকের একটি ফুটওভারব্রিজ রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণের একটি ও উত্তরের দুটি আন্ডারপাস রয়েছে। ওসব ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে খরচ হয়েছে ২শ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর বেশিরভাগ ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারের অনুপযোগী। আবার বেশিরভাগ ফুটওভারব্রিজ যথাযথ স্থানে নির্মাণ করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মিত সেতুগুলো নারী, শিশু, অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী নয়, বরং বিপজ্জনক। ফুটওভারব্রিজের যে উচ্চতা থাকা প্রয়োজন, রাজধানীর ব্রিজগুলোর উচ্চতা তার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় পথচারীরা সেগুলো ব্যবহারে উৎসাহ পায় না।

সূত্র জানায়, রাজধানীর ২৫টি ফুটওভারব্রিজ নিয়ে নগর গবেষণা কেন্দ্রের চালানো এক জরিপে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের অনীহার পেছনে বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হচ্ছে- ফুটওভারব্রিজ দিয়ে চলাচলে অস্বস্তি, নোংরা পরিবেশ, সঠিক স্থানে নির্মাণ না করা, নিরাপত্তাহীনতা, হকারদের দখলদারিত্ব, ছিন্নমূল মানুষের বসবাস, অত্যধিক উচ্চতা ও অধিক সময় ব্যয় ইত্যাদি।

সূত্র আরো জানায়, দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক পুলিশ পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করছে। সম্প্রতি পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ি বেড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সেতু পার হতে পথচারীদের দীর্ঘ লাইনে গাদাগাদি করে পারাপার হচ্ছে। তাতে ভোগান্তিতে পড়ছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা। ফুটওভারব্রিজগুলো প্রশস্ত না হওয়ায় পারাপারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঠাসাঠাসি করে ওঠা-নামা করতে হচ্ছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ জানান, রাস্তা পারাপারের জন্য মানুষ যাতে সমতলে পারাপার হতে পারে সেদিকে জোর দিতে হবে। অর্থাৎ জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করে পারাপারে মানুষকে ৎ্সাহিত করতে হবে। নারী, শিশু, বয়স্ক, রোগীরা ফুটওভারব্রিজ পারাপার করতে পারেন না। সেজন্য রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজই যথাযথ নয়। তাছাড়া রাজধানীর ফুটওভারব্রিজগুলো ফুটপাতের মধ্যে ল্যান্ডিং। ল্যান্ডিং এর কারণে ফুটপাত নষ্ট হয়। মানুষ হাঁটতে পারে না। সেগুলো এমনভাবেই ডিজাইন করতে হবে যাতে তার সর্বোত্তম ব্যবহারটা নিশ্চিত করা সম্ভব।

Related Articles