শিউলী হত্যায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় পোষ্টারিং

মির্জাপুর প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলন্ত বাসে গার্মেন্ট কর্মী শিউলি বেগমের ধর্ষণের চেষ্টা ও বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার পর মৃত্যুর ঘটনায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও প্রকৃত দোষীদের এখনো সনাক্ত করতেপারেনি পুলিশ।নিহতের পরিবারের সদস্যরা দোষীদের ফাঁসির দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পোষ্টার সাটিয়ে দিয়েছেন। গতকয়েকদিন ধরেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এ পোষ্টার দেখা গেছে।

গত ২৬ জুলাই চলন্ত বাস থেকে পড়ে মির্জাপুরের কমফিট কম্পোজিট নীট লিমিটেড কারখানার সুয়িং অপারেটর শিউলী বেগম বাসের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে এ ঘটনায় পুলিশ শিউলী বেগমের সহকর্মী মির্জাপুরের পুষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামের মো. আরিফ খানকে (৩৫), নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পাংখারচর গ্রামের বাস চালক মো. রুহুল আমিন ওরফে রনি শেখ (৩৫) ও তাঁর ভাই সোহেল রানা ওরফে রানা শেখকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা তিনজনই টাঙ্গাইল জেল হাজতে রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত বাসচালক রনি শেখ পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন সকাল সোয়া সাতটার দিকে শিউলী ও আরিফ তাঁদের কর্মস্থলে যেতে গ্রামীণ শুভেচ্ছা পরিববহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৬৩৭) নামে একটি বাসে উঠেন। তাঁরা দুজনই মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত কমফিট কম্পোজিট নীট লিমিটেড কারখানায় চাকুরী করতেন। বাসে উঠেই আরিফ শিউলীর গায়ে হাত দেয়। এতে দুজনের মধ্যে ধস্তাাধস্তির এক পর্যায়ে আরিফ শিউলীকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দিলে ঘটনাস্থলেই শিউলী মারা যান।

তবে গ্রেপ্তারকৃত আরিফ খান ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এছাড়া অভিযুক্ত আরিফ শিউলীর সঙ্গে নন; তাঁর চাচী শাশুড়ি সুরাইয়া বেগম ও মামী শাশুড়ি সাউথ ইস্ট টেক্সটাইল কারখানার সহকারি রাশেদা বেগমের সঙ্গে একই বাসে কারখানায় গিয়েছিলেন।
তাছাড়া আরিফের মা হাজেরা বেগম ও স্ত্রী ফুলমালা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে দাবি করেন, এ ঘটনায় আরিফ জড়িত নন।

সর্বশেষ শিউলীর পরিবারের পক্ষ থেকে মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পোষ্টার সাটিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি করা হয়েছে।

মুঠোফোনে শিউলীর স্বামী শরিফ খান জানান, তাঁর স্ত্রীকে হত্যার ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতভাবে কে জড়িত তা তিনি এখনও জানতে পারেননি। একারণে ঘটনার সঙ্গে জড়িতেদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এলাকায় পোষ্টার সাটানো হয়েছে।

মির্জাপুর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক বলেন, মামলাটির অধিকতর তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আরিফকে দুদফায় রিমান্ডে আনা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

Related Articles