বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত (ভিডিও সহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল পাক হানাদার দিবস মুক্ত দিবস। নানা কর্মসুচির মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলে পালিত হয়েছে হানাদার মুক্ত দিবস। টাঙ্গাইল মুক্ত ও বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও শান্তির প্রতিক পায়রা উড়িয়ে জমকালো এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক।

উদ্বোধন শেষে টাঙ্গাইল পৌরসভার আয়োজনে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে সমবেত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি মো. ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, সংরক্ষিত আসনের এমপি মনোয়ারা বেগমসহ বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা, আওয়ামী লীগ, যবলীগ, ছাত্রলীগ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
পরে পৌর উদ্যানের মুক্তমঞ্চে দিবসটি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মার্চের শুরুতেই টাঙ্গাইল জেলা স্বাধীন বাংলা গণমুক্তি পরিষদ গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ চলতে থাকে। ৩ এপ্রিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের সাটিয়াচড়ায় টাঙ্গাইল প্রবেশে পথে ইপিআর ও মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেন। ঢাকার বাইরে প্রথম সেই যুদ্ধে পাকহানানদার বাহিনীর গুলিতে ইপিআর, মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক গ্রামাবাসী শহীদ হয়। অবরোধ ভেঙ্গে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী টাঙ্গাইল শহরে প্রবেশ করে। একের পর এক মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও শিশুদের হত্যা করতে থাকে।

পাক হানাদার বাহীনিরা জেলা সদরের পানির ট্যাংকির পাশে মুক্তিযোদ্ধা ও শতশত সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখে। সেটি এখন বদ্ধভূমি নামেই পরিচিত।

টাঙ্গাইলের কৃতী সন্তান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল মান্নান মুক্তিযুদ্ধে বিশাল অবদান রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৭২ হাজার সেচ্ছাসেবক নিয়ে গড়ে উঠে বিশাল কাদেরিয়া বাহিনী। এই বাহিনী প্রচন্ড প্রতিরোধ ও প্রত্যাঘাত শুরু করে পাক সেনাদের ওপর। কাদেরিয়া বাহিনীর পরিকল্পিত একের পর এক আক্রমণের ফলে পাক সেনাদের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি হয়। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে ৮ তারিখ পর্যন্তু টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় বিশাল কাদেরিয়া বাহিনী প্রায় ৩ শতাধিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পর্যুদস্তু করে পাকসেনাদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারদিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে ঘিরে ফেলা হয় টাঙ্গাইল। সার্কিট হাউসে অবস্থানরত পাক সেনারা কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ মুক্ত হয় টাঙ্গাইল।

Related Articles