অর্থ আত্মসাতের লোভে বাসাইলে প্রবাসীর স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করে মামলার বাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলে অর্থ আত্মসাতের লোভে পরকীয়া প্রেমের কারনে প্রবাসীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে হত্যা করে মামলার বাদি নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন, তার পরকীয়া প্রেমিক নিহতের বোনের ছেলে আব্দুর রহিম এবং তাসলিমা খাতুনের ভাই আল আমিন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মনোয়ারা বেগমের বোনের ছেলে, ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রীর ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা তিনজনেই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় পুলিশ অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গত ১জানুয়ারি সকালে বাসাইল উপজেলার নথখোলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী ধলা মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের (৩৭) জবাই করা মৃতদেহ নিজ বাড়ির ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহত মনোয়ারার ভাই আব্দুল কাদেরের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (২৮) বাদি হয়ে বাসাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়।

মামলাটি প্রথমে বাসাইল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে এর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে। গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (দক্ষিন) শ্যামল কুমার দত্ত জানান, এই হত্যাকান্ডের সাথে মামলার বাদি তাসলিমা খাতুনের জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহ হলে গত সোমবার নিহত মনোয়ারা বেগমের আপন বোনের ছেলে রহিম মিয়া (২৬), মামলার বাদি তাসলিমা খাতুন (মনোয়ারা বেগমের ভাই আব্দুল কাদেরের স্ত্রী) ও তাসলিমা খাতুনের ভাই আল আমিনকে (১৯) আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদের তারা মনোয়ারা বেগমকে জবাই করে হত্যার কথা স্বীকার করে। তারা জানান, তাসলিমার সাথে আব্দুর রহিমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মাদকাসক্ত আব্দুর রহিম মাঝে মাঝেই তাসলিমার কাছ থেকে টাকা পয়সা নিতো। তাসলিমা মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে টাকা নিয়ে রহিমকে দিতো। এতে মোটা অংকের টাকা মনোয়ারা বেগমের কাছে ঋন হয়ে যায়। তাই তারা মনোয়ারাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে গিয়ে কৌশলে তাকে কোমল পানির সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুর্বল করা হয়। পরে তারা মনোয়ারা বেগমের হাত-পা বেধে ধারালো চাকু দিয়ে গলা জবাই করে এবং হাত পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চত করে টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন। পরে তারা তিনজনেই আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরের পর তিনজনকে টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামসুল আলম আসামী আব্দুর রহিমের, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসুম তাসলিমা খাতুনের এবং সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম আল আমিনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

Related Articles