চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক সাংসদ খন্দকার আব্দুল বাতেন

এস এম আওয়াল মিয়া : টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সাবেক সাংসদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বাতেন বাহিনীর প্রধান খন্দকার আবদুল বাতেনকে নাগরপুর উপজেলার কোনড়া নিজ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নামাজে জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। নামাজে জানাজায় অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন, সাংসদ তানভীর হাসান ছোট মনির, সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু, জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম, নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ। তাঁর বড় ছেলে শাহারিয়ার নাজিম জয় বাবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

গত সোমবার সকালে ঢাকায় একটি হাসপাতালে সাবেক সাংসদ আবদুল বাতেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। খন্দকার আবদুল বাতেন ষাটের দশকে করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজে অধ্যায়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হন। তিনি ১৯৬৭-’৬৮ সালে সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং ১৯৭০ সালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় খন্দকার আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের দক্ষিণ অঞ্চলে একটি বাহিনী গড়ে উঠে। যা বাতেন বাহিনী নামে পরিচিতি লাভ করে। স্বাধীনতার পর খন্দকার বাতেন জাসদে যোগদান করেন।

তিনি ১৯৮৬ সালে নাগরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালের পর জাসদ ছেড়ে আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচনের টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে প্রথম বারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে পুনরায় সাংসদ নির্বাচিত হলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হন।

Related Articles