মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডা, সাগরদিঘীর অনিক পার্কে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের সাগরদিঘী তালতলা এলাকার অনিক পার্কে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। এছাড়া মাদক সেবীরাও বেছে নিয়েছে তাদের মাদকের আড্ডার নিরাপদ স্থান হিসেবে। অথচ স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছে।

এদিকে পার্কের আশেপাশের লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে পার্ক কর্তৃপক্ষের অনৈতিক কার্যকলাপে।

সরেজমিন গিয়ে অনিক পার্কে গিয়ে দেখা যায়, ভিতরে প্রবেশ করতে জনপ্রতি ১০টাকা নেয়া হয়। এর পর একটু এগুলেই বিনোদনের স্থান। পাশেই দেয়াল। সেখানে লাগানো হয়েছে গেট। ভিতরে গিয়েই চোখে পরে সামনে বিশাল সুইমিং পুল। এর পাশেই আমসহ বিভিন্ন গাছের বাগান। আর এই বাগানের ভিতরেই তৈরী করা হয়েছে ছোট ছোট ঘর। আর এসব ঘর প্রতিদিন ঘন্টায় তিন থেকে চার হাজার টাকা ভাড়া দেয়া হয় প্রেমিক যুগল এবং বিভিন্ন খদ্দেরদের কাছে। বাগানের বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভিতরে কোন ঘর আছে। তাই এটি নিরাপদ মনে করে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে প্রেমিক যুগল এবং খদ্দেররা ভীড় জমায় এই পার্কে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক এলাকাবাসী জানান, প্রেমিক যুগল ছাড়াও পার্কের ওই ঘরগুলো বিভিন্ন খদ্দেরদের ভাড়া দেয়া হয়। আর সেই খদ্দেরদের চাহিদামত পার্ক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থান থেকে আনা নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই ব্যবসা পলিচালনা করায় আমরা সাধারণ এলাকাবাসী কিছুই বলতে পারছি না।

২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অনিক পার্কে ভাড়া করা একটি কক্ষে ধলাপাড়া কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে তার প্রেমিক ফজলে রাব্বী (২৫)। পরে এলাকাবাসী টের পেয়ে ধর্ষক ফজলে রাব্বীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর ধর্ষিতা কলেজ ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা করেন। ফজলে রাব্বী পার্শ্ববর্তী সরাবাড়ি গ্রামের শহীদের ছেলে।
অপরদিকে অনিক পার্কটি পাহাড়ী এলাকায় হওয়ায় মাদকসেবীরা তাদের নিরাপদ স্থান হিসেই বেছে নিয়েছে। তাই প্রতিদিনই চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় পার্কে এমন অনৈতিক কার্যকলাপের কারনে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী অমিলম্বে অনিক পার্কে অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

Related Articles