কালিহাতীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: বর্ষা মৌসুমে নির্ঘুম রাত কাটান গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী নদীতে পানি এলেই মহেলা গ্রামটির মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে নির্ঘুম রাত কাটান গ্রামবাসী। কেউ কেউ বর্ষা শুরুর আগেই বাড়ির সামনে বাধে বাঁশ দিয়ে ভাঙ্গন রোধে ঘেড় তৈরি করেছে ইতিমধ্যেই। তবুও তাদের আতংকের শেষ নেই। তাদের ধারনা পানি আসার সাথে সাথেই ভাঙ্গনের কবলে পরবে মহেলার ১৭৬টি পরিবার (গুচ্ছ গ্রাম) রক্ষারজন্য একমাত্র বাঁধটি। পৌলী নদী থেকে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার কারনেই এই ভাঙ্গনের একমাত্র কারন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কালিহাতী উপজেলার মহেলা গ্রামের পৌলী নদীতে এক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি স্থানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দিনে পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নদীর পার কেটে বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করে চলেছে। এতে করে বর্ষা মৌসুম শুরুর সাথে সাথেই ভাঙ্গনের কবলে পরে মহেলা গ্রামের গুচ্ছ গ্রাম রক্ষার জন্য তৈরি করা প্রায় তিন কিলোমিটার বাঁধটি। গত বর্ষা মৌসুমে কয়েক দফা ভাঙ্গনের কারনে শত শত একর আবাদি জমি ও দেড়শতাধিক বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া পৌলী নদীর উপর নির্মিত রেলসেতুটি গত বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ পাশের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় অল্পের জন্য রক্ষা পায় ট্রেনের শতশত যাত্রী। ওই সময় স্থানীয় প্রশাসন থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিলেও আবার শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন।স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর, ফরমান মুন্সি, সুনু ডাক্তার, কাদের মিয়া, শাহাদৎ কাজি, দানেজ, রুপচান মাতাব্বর, একাব্বর ও নায়েব আলী একটি, একই এলাকার তোফাজ্জল হোসেন এবং রাজাবাড়ি গ্রামের আব্দুল মালেক একটি, জাকির হোসেন মাসুম ও সোহেল সিকদার একটি অবৈধভাবে তৈরি করা বালুর ঘাট পরিচালনা করছেন। এরা সবাই সরকার দলীয় লোক হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার কারনে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়। তবুও প্রশাসন থেকে এটি বন্ধের কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না। মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসন আসলেও আগেই সংবাদ পেয়ে বালু ব্যবসায়ীরা কেটে পড়েন। প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর আবার শুরু হয় তাদের বালু উত্তোলন।

মহেলা গ্রামের চান মিয়া নামের এক এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মহেলা গ্রামের কয়েকজন সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা এই বালু ও মাটি ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে। এ কারনে এটি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসন চাইলে এটি বন্ধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

একই গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, প্রশাসনকে বলে কি হবে, খবর দিলে তারা আসার আগেই বালু ব্যবসায়ীরা খবর পেয়ে চলে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেইতো বালু ব্যবসায়ীদের জানানো হয় তাদের আসার খবর এমনোই মন্তব্য করেন তিনি।

বালু ব্যবসায়ী হাফিজুর জানান, তারা নিজস্ব জমি থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে বিক্রি করছেন। কোন সরকারি জমি বা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন না। নিজস্ব জমি থেকে বালু উত্তোলন করেন তবুও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার খবর পেয়ে পালান কেন এর কোন জবাব তিনি দিতে পারেননি।

আরেক বালু ব্যবসায়ী সুনু ডাক্তার জানান, সকল পর্যায় ম্যানেজ করেই বালু ও মাটি ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনও জানে এখানে বালু উত্তোলন করা হয়। আজ লিখলে কাল বন্ধ হবে, দুইদিন পর আবার শুরু হবে।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ বলেন, কয়েকদিন আগে তিনি মহেলা গ্রামে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। সরকারিভাবে পৌলী নদীতে কোন বালুর ঘাট ইজারা দেয়া হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles