ক্ষতিপূরন চান জাহালম ও তার পরিবার

ক্ষতিপূরন চান জাহালম ও তার পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৩ বছর বিনা দোষে কারাভোগের পর অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়া জাহালম মিয়া (৩০) ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরনের দাবি জানিয়েছেন।

আজ সোমবার দুপুরে জাহালমের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়ায় গিয়ে দেখা যায় শতশত মানুষ তাকে একনজর দেখতে ভীড় করছেন তাদের বাড়িতে। অনেকেই শান্তনা দিচ্ছেন জাহালম ও তার মাকে। স্বজনরাও দীর্ঘ তিন বছর পর জাহালমকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন। স্বজনদের জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন জাহালম।

জাহালম জানান, মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার যন্ত্রনা ভূলতে পারছিনা। একমাত্র শিশু কন্যার মুখে বাবা ডাক থেকে বঞ্চিত হয়েছি দীর্ঘ তিন বছর। কে ফিরিয়ে দেবে এই তিন বছর। দুনিয়ার এমন কোন শক্তি আছে যে আমাকে আমার তিন বছর ফিরিয়ে দিতে পারবে। যদি নাই পারবে তাহলে কেন সঠিকভাবে তদন্ত না করে আমাকে আটক করা হলো। কেনই বা কোন দোষ না করেই দীর্ঘ তিন বছর করাগারে থাকতে হলো। কারাগারে থাকার সময়ে মামলা পরিচালনা করতে আমার সকল জমিজমা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এখন থাকার জন্য একটি ছাপড়া ঘর (ছোনের) ছাড়া কিছুই নেই। এই তিন বছরে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবার আমাকে মুক্ত করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। আমার মা অন্যের বাড়ি কাজ করে আমার মুক্তির জন্য দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েছে। স্বজনদের কাছে পেয়ে খুব ভাল লাগছে, শান্তি লাগছে। আমি এর সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরন চাই।

জাহালমের মা মনোয়ারা বেগম জানান, আমার ছেলেকে যারা বিনাদোষে কারাগারে পাঠিয়েছিল তাদের দৃষ্টান্তমুলক বিচার চাই। ছেলের মুক্তির জন্য আমি সবকিছু হারিয়েছি এর ক্ষতিপুরন চাই। আর কোন মায়ের সন্তান এভাবে যেন বিনা দোষে জেলে না যায় এ জন্য সকলকে অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে রোববার রাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পেয়ে জাহালম রাতেই তার গ্রামের নাগরপুরে আসেন।
জাহালম টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের ইউসুফ মিয়ার ছেলে। সে তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। স্ত্রী কল্পনা ও সাত বছর বয়সী চাদনী নামের এক কন্যা নিয়ে তাদের সংসার। জীবীকার টানে বাংলাদেশ জুট মিলে কাজ নেয় জাহালম।

Related Articles