ঘাটাইলে সরকারি খাল দখল করে চলছে পুকুর খনন

ঘাটাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শ্যামবিয়ারা ও দিঘলকান্দি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া শত বছরের পুরনো খাল অবৈধভাবে দখল করে চলছে পুকুর খনন। এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস বাঁধা দিলেও তোয়াক্কা করছে না প্রভাবশালী মহল।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, শত বছরের পুরনো খালটি ঝিনাই নদীর শাখা। ভূমির নকশা অনুসারে এর প্রশস্ত ৪৫ ফুট। উপজেলা প্রশাসন থেকেও পর্যায়ক্রমে খনন করা হয় খালটি। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সরকারিভাবে খালটি খনন করা হয়। শতশত একর কৃষি জমির সেচ ও পানি নিস্কাশন হয় এই খালকে কেন্দ্র করে। কিন্তু পুকুর খনন করে পাড় বেঁধে খালের প্রায় পুরো মুখটাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় খালের উজানের অনেক জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খনন করা পুকুরের খুব কাছাকাছি খালের উপর রয়েছে সেতু। ভেকু দিয়ে অনেক গভীর থেকে মাটি কাটার কারনে সেতুটিও রয়েছে ঝুঁকিতে।

শ্যামবিয়ারা গ্রামের আকবর হোসেন জানান, পুকুর খনন করে খালে বাধ দেয়ার ফলে ঠিকমত পানি নিস্কাশন হতে পারবে না। বর্ষার পানিতে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। খালের সাথে থাকা আড়াই বিঘা পৈর্ত্তৃক সম্পত্তিতে পুকুর খনন করছে শ্যামবিয়ারা গ্রামের তিন ভাই হায়দার আলী, হারুন মিয়া ও হুমায়ুন।

এ বিষয়ে খনন করা পুকুরের মালিক হায়দার আলী জানান, আমি খাল দখল করে পুকুর খনন করছি না। আমার জমির উপর দিয়ে খালটি রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হিটলু জানান, অনেক মানুষ মিথ্যা প্রত্যায়ন এনে অনেকেই খাল দখল করে আসছে। দখল এমন পর্যায় পৌঁছেছে যে খালের কোন চিহৃ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে পুকুর কাটলে ভারী বর্ষন হলে শত শত একর জমির ফসল ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নূর নাহার বেগম জানান, বিষয়টি আমি জানার পর খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তার পরও যদি তারা এ কাজ করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles