পরিবেশ রক্ষায় পুলিশের পৃথক ইউনিটের প্রয়োজন আছে: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম(বার) বলেছেন, দেশে ‘পরিবেশ পুলিশ’ গঠনের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।

যদিও পরিবেশ অধিদপ্তর সরকারের আলাদা একটি সংস্থা। তাদের নিজস্ব গতিতে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। পরিবেশ যেখানে বিঘ্নিত হয় সেখানে তারা আইন প্রয়োগ করে থাকেন। সত্যিকার অর্থে যদি পরিবেশ রক্ষা করতে হয়, তাহলে পরিবেশ পুলিশের প্রয়োজন আছে।

তিনি বলেন, যত্রতত্র রাস্তার আশে-পাশে যে পরিমাণ ইটভাটা হচ্ছে তাতে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এক কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের সময় ৮-১০টা ইটের ভাটা চোখে পড়ে। ইটের ভাটাগুলো যেভাবে মাটির টপসয়েল নষ্ট করে জমির উর্বরতা হারাচ্ছে তাতেও আশেপাশের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি জমিতে কৃষি পণ্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, আম গাছে আম না ধরাসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শনিবার(৬ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলে ‘পুলিশ অফিসার্স মেস’ এর উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি গোপালপুর সার্কেল অফিস, সখিপুর এসআই কোয়ার্টার, মির্জাপুর এসআই কোয়ার্টার ও পুলিশ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার উদ্বোধন এবং পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্স ডরমেটরী, সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

আইজিপি বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যাপ্ত পরিমাণ জনবল আছে কিনা সেটা আমার জানা নাই। তবে এসব সমস্যা দেখভাল করার জন্য যদি ‘পরিবেশ পুলিশ’ থাকত, তাহলে আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারতাম।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নদী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঢাকাসহ আশ-পাশের নদীগুলোর পানিকে আর পানি বলা যায় না। বুড়িগঙ্গার পানির রঙ ও দুর্গন্ধের কারণে নদীর কাছে যেতে ইচ্ছে করে না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নদীগুলো নির্মূল থাকে। নদীর পাড়গুলো এমন থাকে যেখানে মানুষ বেড়াতে যায়। তিনি আরো বলেন, উন্নত দেশের নদীগুলো সংরক্ষণ করা হয়। আমাদের দেশেও নদী সংরক্ষণ করা সম্ভব। আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। যারা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন, তাদের নিষেধ করতে হবে। নদীকে সংস্কার করে যেভাবে ব্যবহার করা উচিত, যেভাবে ব্যবহার করলে পরিবেশ বজায় থাকবে- সেভাবে ব্যবহার করতে হবে।

এসময় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপিএম, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) আহাদুজ্জামান মিয়া, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলাসহ পুলিশের উর্ধতম কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles