স্বামীকে মারপিট করে স্ত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে গণধর্ষন: তিনজনের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি, তিনজন তিনদিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে স্বামীকে পিটিয়ে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গনধর্ষনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়ায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাকি তিনজনকে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রেপ্তারকৃত ইউসুফ রানা, রবিন ও জাহিদুল স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

এছাড়া অন্য আসামী মফিজ, ইব্রাহিম এবং তাছিমকে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দেওয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়ায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনকে আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তিনজনের প্রত্যেককে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে থাকা মফিজ, ইব্রাহিম এবং তানজীরুল ইসলাম তাছিন জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক হাসান সিকদার ও প্রাইভেটকার চালক উজ্জলকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের নুতন বাসস্ট্যান্ড নাভানা পেট্রোল পাম্পে স্বামী-স্ত্রী’র কর্মস্থল মির্জাপুরের গোড়াই যাওয়ার জন্য যানবাহন খুঁজছিলেন। এসময় আটজন বখাটে ফজলুকে পাম্পের পিছনে নিয়ে মারপিট করে মোবাইল ও টাকাপয়সা নিয়ে নেয়। স্বামীকে মারপিট করা দেখে স্ত্রী এগিয়ে যান। ওই সময় ফজলুর স্ত্রীকে প্রথমে ইউসুফ রানা নাভানা পেট্রোল পাম্পের পিছনে ও ডিসি লেকের পাশে মোঃ রবিন এবং ইউসুফ পুনরায় তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে রবিন মোটর সাইকেলে জোরপূর্বক ফজলুকে উঠিয়ে দেওলা নার্সারির সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

এরপর আবার মোঃ রবিন তার স্ত্রীকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে সাবালিয়া এলাকার চোরজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে পুন:রায় গণধর্ষন করে। পরে ফজলু তার স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে হাসপাতাল গেটে টহলরত পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চোরজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে গৃহবধুকে উদ্ধার ও রবিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Related Articles