ভূঞাপুরে বিদ্যালয়ের চুরি যাওয়া প্রজেক্টর কম্পিউটারসহ দুইজন গ্রেফতার

অভিজিৎ ঘোষ : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফলদা রামসুন্দর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের চুরি যাওয়া কম্পিউটার ও প্রজেক্টরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার) রাতে উপজেলার ফলদা বাজার ও গোপালপুর উপজেলার দৌলতপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃরা হল, উপজেলার ফলদা হিন্দুপাড়া গ্রামের আবুল ড্রাইভারের ছেলে হৃদয় (২২), গোপালপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মাসুদ রানা। গ্রেফতার দুইজনের মধ্যে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) হৃদয়কে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইলে কোর্টে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
শিক্ষক মমতাজ পারভীন জানান, উপজেলার ফলদা রামসুন্দর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব থেকে ৫টি কম্পিউটার সিপিইউ ও একটি প্রজেক্টর চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাতরা। তবে চুরি যাওয়ার বিষয়টি জানেন না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ২ মে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার কক্ষটি খোলা দেখতে পান গণিত শিক্ষক রওশন আলী। পরে ৩ মে নতুন তালা লাগনো হয়। এরপর (১৬ জুলাই) কম্পিউটার শিক্ষক মমতাজ পারভীন মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ নেয়ার জন্য প্রজেক্টর বের করার জন্য গেলে দেখেন সেগুলো কক্ষে নেই। এসময় একটি প্রজেক্টর ৫টি কম্পিউটার পিসি দেখতে পাননি। পরে এঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদি হয়ে ভূঞাপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
রামসুন্দর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক মমতাজ পারভীন বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশের জন্য প্রজেক্টর আনতে কম্পিউটার ল্যাবে গেলে সেখানে প্রজেক্টর পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরো ৫টি কম্পিউটারের সিপিইউ পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল জানান, দুইমাস আগে বিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার ও প্রজেক্টর চুরি হয়ে গেলেও গত ১৬ জুলাই জানতে পেরেছি। এবিষয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে হৃদয় ও মাসুদ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সাথে মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এখনও চুরি যাওয়া দুইটা সিপিইউ উদ্ধার করা হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী, পিয়ন, শিক্ষকসহ সকলের গাফিলতি রয়েছে চুরি যাওয়ার বিষয়ে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন জানান, চুরির ঘটনায় জড়িত থাকায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে চুরি যাওয়া কম্পিউটার সিপিইউ তিনটি ও প্রজেক্টর উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুইটি সিপিইউ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের মধ্যে একজনকে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

Related Articles