মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী রেজার দাফন সম্পন্ন ॥ হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন আইনজীবী মিয়া মো. হাসান আলী রেজার দাফন সম্পন্ন হয়েছে হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে দশটায় কোর্ট চত্ত্বরের জামে মসজিদের সামনে তার নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে ঘাটাইলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘাটাইলের বাইকাইল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে জানাযা নামাজ শেষে পারিবাহিক সম্পন্ন হয়েছে। নিখোঁজের পাঁচদিন পর গতকাল শনিবার দুপুরে লৌহজং নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষ করা হয়। পরিবারের দাবি সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি করেন।

কোর্ট চত্ত্বরের জামে মসজিদের সামনে নামাজের যানাজায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আবুল মনছুর মিয়া, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আনিছুর রহমান মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল,

নিহতের ছেলে মো. রাশেদুল হাসান লিটু বলেন, আমার বাবার কোন শত্রু ছিলো না। একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ আইনজীবির লাশ নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে তাদের লাশ পানিতে ভেসে উঠবে একটা কল্পনাও করা যায় না। তাই সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, প্রশাসনকে কিছু না বলায় তারা যার যার মতো কাজ করে। গত সপ্তাতে একজন মুক্তিযোদ্ধা নিখোঁজ হয়েছিলো তাকে পুলিশ প্রশাসন খুঁজে বের করতে পারেনি। আল্লাহর রহমতে তারই উছিলায় লাশ নদীতে ভেসে উঠে। তার লাশ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোন ভূমিকা নেই।
তিনি আরও বলেন, আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গর্ব হতো। কিন্তু এখন আর সেই গর্ব করতে পারিনা। কারণ একজন মুক্তিাযোদ্ধার যদি স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে আমরা কোন দেশে বসবাস করি। প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউর রহমান বলেন, আমাদের তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। অল্প সময়ের মধ্যে এই হত্যা রহস্য উন্মোচন করে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সোমবার সন্ধ্যায় হাসান আলী রেজা টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ার পাঞ্জাপাড়া বাসা থেকে চা খাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। তারপর আর বাসায় ফিরে আসেননি। পরদিন ৯ জুলাই পরিবারের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ১০ জুলাই বুধবার টাঙ্গাইল মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। ওই দিন সকালে মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রিয় সদস্য হাসান আলী রেজার সন্ধান চেয়ে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। পর দিন ১১ জুলাই টাঙ্গাইল আদালত চত্বরে আইনজীবিরা মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন। ১৩ জুলাই লৌহজং নদী থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হাসান আলীর ছোট ছেলে রাশেদুর হাসান লিটু তাঁর লাশ সনাক্ত করেন।

Related Articles