শাহ আলমের তৈরি বাঁশের পন্য যাচ্ছে বিদেশেও

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শাহ আলমের বাঁশের তৈরি সামগ্রী শুধু দেশে নয়, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারেও পৌছে গেছে। দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদা। তাই তাদের গ্রামের আরো অনেকেই এখন শাহ আলমের পথ অনুসরন করে স্বাবলম্বি হয়েছেন।

দেলদুয়ার উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বর্ণী গ্রাম। এ গ্রামের সন্তান শাহ আলম। বর্ণী গ্রামে শতাধিক পরিবার বংশ পরম্পরায় বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তারা সাধারণত কুলা, ধামা, পলো, ঝাড়– এ ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরি করতেন। সময়ের আবর্তে এসব পন্যের চাহিদা কমে যায়। ফলে অনেকেই পেশা ছেড়ে চলে যান।

ছোট বেলাতেই শাহ আলম বাঁশ বেতের কিছু কাজ শিখেছিলেন। তাই ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর বাঁশ বেতের সামগ্রী তৈরির কাজ শুরু করেন। শাহ আলম বলেন, ওইসময় কাজ করতে গিয়ে দেখি দিন দিন প্রচলিত সামগ্রীর চাহিদা কমছে। চিন্তা করি নতুন নতুন সামগ্রী তৈরি করতে হবে। তবেই এ পেশায় টিকে থাকা যাবে।

এই ভাবনা থেকেই ১৯৯৩ সালে ঢাকার একটি অভিজাত কারুপন্যের দোকানে গিয়ে কথা বলেন শাহ আলম। তারা তাকে বাঁশের তৈরি ট্রে ও বেতের তৈরি টেবিল ম্যাট নকশা দিয়ে সেগুলো তৈরি করে দিতে বলেন। শাহ আলম তৈরি করে সর্বরাহ করার পর পছন্দ হয় সেগুলো। তার পর থেকে নিয়মিত সর্বরাহ শুরু হয় ঢাকার বিভিন্ন কারুপন্যের দোকানে। এখন শুধু ঢাকা নয়, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত যাচ্ছে শাহ আলমের তৈরি বাঁশ শিল্প। শাহ আলম এখন পেপার ঝুড়ি, লন্ড্রি ঝুড়ি, টেবিল ল্যাম্প, ফ্লোর ল্যাম্প, জুয়েলারি বক্স, ফটোস্ট্যান্ড, বিভিন্ন ধরনের শোপিচ তৈরি করছেন। গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সরেজমিন শাহ আলমের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ ছয়জন কর্মী কাজ করছেন তার উঠানে। তাদের সাথে শাহ আলম নিজেও কাজ করছেন। তিনি জানান, শুধু নিজ বাড়িতে নয়, তিনি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে কাঁচামাল দিয়ে আসেন। ওইসব বাড়ির লোকেরা তার চাহিদামত বাঁশের পন্য তৈরি করে দেন।

শাহ আলম তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে বাংলাদেশ কারু শিল্প পরিষদের ‘শিলু আবেদ কারু শিল্প পুরস্কার’ লাভ করেন। ২০১৬ সালে পেয়েছেন লোকশিল্প জাদুঘর প্রদত্ত পুরস্কার। কারু শিল্প বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী ও কর্মশালায় অংশ নিতে ভ্রমন করেছেন জাপান, মালয়েশিয়া, ভারত, শ্রীলংকা, ভুটান, সিংগাপুরসহ বিভিন্ন দেশে।
শাহ আলম বলেন, প্রতিদিনি বাঁশের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে। তাই অনেক মানুষ সম্পৃক্ত হচ্ছে এ কাজে। যারা কাজ ছেরে দিয়েছিলেন, তারাও আবার ফিরে আসছেন এ কাজে।

 

Related Articles