টাঙ্গাইলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত দ্বিতীয় শিফটের সম্মানী ভাতা সম্মানজনক না হওয়ায় টাঙ্গাইলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা দ্বিতীয় শিফটের ক্লাশ বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি (বাপশিস) জেলা শাখার সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ (বাপশিপ) জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ হযরত আলী, বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি (বাপশিস) জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, গত ১৮ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্তৃকজারীকৃত দ্বিতীয় শিফট পরিচালনা ভাতা সম্মানজনক না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা আন্দোলন শুরু করেছি। জারীকৃত আদেশটি মাঠ পর্যায়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারিরা দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্মবিরতি পালন করে যাচ্ছে। যতদিন না তাদের দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে ততদিন তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন।
এসময় অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কারিগরি শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে প্রথম শিফ্টের মতোই ২০০৪ সাল থেকে ২য় শিফট চালু করা হয় এবং ৩০% হারে ২য় শিফট ভাতা ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রদান করা হয়, জুলাই ২০১৩ থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত জাতীয় স্কেল ২০০৯ অনুযায়ী ৫০% হারে উন্নীত করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০১৫ থেকে জুন ২০১৮ পর্যন্ত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫০% হারে সম্মানী প্রদান করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে অর্থ মন্ত্রণাণলয়ের ০৫/০৯/২০১৮ তারিখের এক প্রজ্ঞাপন মূলে জুলাই ২০১৮ হতে জাতীয় স্কেল ২০০৯ অনুযায়ী ৩০ জুন ২০১৫ আহরিত মূল বেতনের ৫০% উত্তলনের আদেশ প্রদান করা হয়। যা শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীরা মেনে নেয়নি ও ১ বছরের বেশী সময় ২য় শিফটের কোন সম্মানী গ্রহন করে নাই। সবার দাবি চলমান মূল বেতনের ৫০% (জাতীয় পে স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী) প্রদান করে পর্যায়ক্রমে ১০০% এ উন্নীত করা। উল্লেখ্য যে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৮ জুলাই ২০১৯ সালে গ্রেড ভিত্তিক ২য় শিফটের যে সম্মানী প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় তা আরো অসম্মান জনক। কেন্দ্রীয় যৌথ কমিটির (বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষক সমিতি ও পরিষদ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরাধীন কর্মচারী সমিতি) সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ০১ আগস্ট ২০১৯ হতে বিদ্যমান সমস্যা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ২য় শিফটের ক্লাস বর্জন সহ সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Related Articles