প্রেম বিয়ে সংসার এরপর অপহরণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফাতেমা তুজ জোহরা তৃপ্তি ভালোবেসে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল সুমন আহমেদকে। আড়াই মাস সংসার করেছে। কিন্তু তারপর স্বেচ্ছায় সুমন ফিরিয়ে দিয়েছে তৃপ্তিকে ওর বাবা-মার কাছে। তারপরই তৃপ্তি আদালতে বলেছে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে তার শরীর স্পর্শ করতে পারেনি সুমন একথাও বলেছে আদালতে তৃপ্তি। এদিকে সুমন পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বেলুয়া গ্রামের বাড়ি সুমন ও তৃপ্তির। পাশাপশি বাড়ি হওয়ার সুবাদে দু’জনের মধ্যে জানাজানি ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে। তৃপ্তির বাবা মন্ডল গোষ্ঠীর আর সুমনরা বেপারী। এ কারনেই দুই পরিবারের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বিয়ে। তৃপ্তির বাবা মোঃ সুলতান আহমেদ ও সুমনের বাবা মোঃ ছবুর বেপারী দু’জনের প্রতিপক্ষ হয়ে যায়।


ফাতেমু তুজ জহুরা তৃপ্তি কুমুদিনী সরকারি কলেজে এইচএসসি ২য় বর্ষে পড়াশোনা করে। অন্যদিকে সুমন আহমেদ ঢাকায় একটি ফার্মে আইটি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরী করেন। এ বছর ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় তৃপ্তি জামতৈল তার ফুপুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়। বেলুয়ার কালিভিটায় পৌছালে সুমন তার পিতা ছবুর বেপারী (৫৫), ভগ্নিপতি কাওছার আলী (৪২), বোন স্বপ্না (৩৬), ভাই রাজু (৩২), মা জহুরা বেগম পিয়ারীসহ (৪৫) অজ্ঞাতনাম ২/৩জন মিলে তৃপ্তির মুখ চেপে ধরে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে জামালপুরের সরিষাবাড়ির দিকে চলে যায়।

তৃপ্তিকে তার বাবা খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে মোঃ মজিবর রহমান (৬০), মোঃ আলী আকবর (৫২) ও মোঃ নাছির উদ্দিন (৫৫) জানানয়, সুমন ও তার সহযোগিরা তার মেয়েকে অপহরণ করে সরিষাবাড়ির দিকে নিয়ে গেছে। মোঃ সুলতান আহাম্মেদ ২৩ এপ্রিল একই অভিযোগে গোপালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ পরদিন ২৪ এপ্রিল আসামী ছবুর বেপারী ও তার স্ত্রী জহুরা বেগম পিয়ারী ও পুত্র রাজুকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে সুমন ও সৃপ্তি গাজীপুরে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ে করে সংসার করতে থাকে। এরই মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সুমন তৃপ্তিকে ফেরত দেয়।
গত ১৩ জুলাই ঐ শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় মোঃ কাওছার আহম্মেদের বাড়িতে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ লস্কর আলী সরকার।

সভায় সুলতান আহম্মেদ ও ছবুর বেপারী উপস্থিত ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃপ্তিকে ফেরত দেয় সুমন।
তৃপ্তিকে পুলিশ উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। গত ৪ আগস্ট আদালতে জবানবন্দি দেয় তৃপ্তি। কিন্তু গ্রাম্য শালিসে সে সহজেই বলে সুমনের কথায় সে ওইদেন তার সাথে গিয়েছিল। কেউ তাকে জোর করে নিয়ে যায়নি। কিন্তু পরে আদালতে সে জানায়, সুমনের আত্মীয় স্বজনরা তাকে দুটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা করে নিয়ে যায়। পরে একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরে তাকে আটকে রাখে। কেউ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। পরবর্তীতে সুমন তার ভগ্নিপতি ও বোন মিলে তৃপ্তিকে গোপালপুরে তার ফুপুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
তবে জবানবন্দির শেষে তৃপ্তি বলেছে, আসামী সুমন এবং তার পরিবারের লোকজন তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। আসামী সুমন আহম্মেদ তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
তৃপ্তির জবানবন্দির কোথাও বলেনি কেউ তাকে জোর করে নিয়ে গেছে। শুধুমাত্র শেষে এসে বলেছে সুমন ও তার পরিবারের লোজন জোরপূর্বক অপহরণ করে।
নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে পরে কাজি অফিসে বিয়ে করে তৃপ্তি সুমনের সাথে সংসার করার পরও বলছে, সুমন তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।

Related Articles