কালিহাতীতে রাতের আধাঁরে সরকারি গাছ কর্তন!

কালিহাতী প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাতের আধাঁরে রাস্তার সরকারি গাছ কর্তন করে বিক্রি করছে একটি মহল। সরকারি অনুমতি ছাড়াই উপজেলার তেজপুর থেকে গান্ধিনা পর্যন্ত প্রায় ১ কি.মি. এবং গান্ধিনা থেকে দড়িখরশিলা পর্যন্ত ৬’শ মি. রাস্তার দু’পাশের সরকারি গাছ ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করার ও খবর পাওয়া গেছে। তেজপুর থেকে গান্ধিনা পর্যন্ত রাস্তার গাছ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং গান্ধিনা থেকে দড়িখরশিলা পর্যন্ত রাস্তার গাছ ৮০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে নাগবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. মালেক ও মো. ফজলু মিয়া। তারা গাছ ক্রয় করে গাছগুলি তাদের নিজস্ব স’মিলে স্তুপ করে রেখে দিয়েছে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আয়নালের নেতৃত্বে রাতের আধাঁরে গাছগুলি কেটে মালেক ও ফজলুল হকের নিকট বিক্রি করে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিনা টেন্ডারে এসব গাছ কেটে বিক্রি করলেও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। জনপ্রতিনিধিরা যদি এরকম অনৈতিক কাজ করে, তাহলে সাধারণ মানুষ কি করবে। আবার অনেকেই তাদের প্রভাবে মুখও খুলেননি।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মো. মালেক বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কে বা কাহারা গাছ কেটে বিক্রি করছে তাও জানি না। আমার নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ইউপি সদস্য ফজলু মিয়া বলেন, আমি গাছ কাটা ও গাছের ব্যবসা কিছু করি না। আমার নামে কোন অভিযোগ থাকলে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।
মুঠোফোনে গাছ কাটার বিষয়ে আয়নাল মেম্বারের নিকট জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে নাগবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান মিল্টন সিদ্দিকী বলেন, সরকারি গাছ কর্তনের বিষয়টি আমি জানতাম না। খবর নিয়ে জানতে পারি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজসে এসব গাছ কেটে বিক্রি করেছে বলে শুনেছি।
কালিহাতী এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, বিষয়টি তেজপুর থেকে গান্ধিনা পর্যন্ত ও গান্ধিনা থেকে দড়িখরশিলা পর্যন্ত এলজিইডি’র রাস্তার দু’পাশে প্রসস্থকরণ কাজ চলমান। এ সুযোগে স্থানীয় একটি মহল রাতের আধাঁরে রাস্তার দু’পাশের গাছগুলি কেটে বিক্রি করে ফেলেছে। একারণে আমরা গাছ কর্তনকারীদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি।

Related Articles