টাঙ্গাইলে অন্তঃসত্তা নারী ও তার কন্যাকে হত্যার ঘটনায় একজন গ্রেফতার, টাকা ও অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে ঘরে ঢুকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তার চার বছরের শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে একই এলাকার রাইজদ্দিন (৩৬) কে গ্রেফতার করে, চুরি যাওয়া টাকা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, রাইজউদ্দিন আল আমিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলো। সে সুবাধে রাইজ উদ্দিন আলামিনের বাড়িতে যাতায়াত করতো। রাইজউদ্দিনকে দিয়ে আলআমিন মাঝে মাঝে তার বাড়ি থেকে টাকা আনতে পাঠাতো। সেই সুযোগে টাকার লোভ সামলাতে না পেরে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে আলআমিনের বাসায় টাকা চুরি করতে যায় রাইজউদ্দিন। ৮ লাখ টাকা চুরি করার সময় তার স্ত্রী বাধা প্রয়োগ করলে ছুরি দিয়ে এ্যালোপাথারি কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। বিষয়টি মেয়ে আলিফা দেখে ফেলায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে রাইজ উদ্দিন। মামলার পর রোববার রাতে টাঙ্গাইল শহরের ভাল্লুককান্দি এলাকা রাইজউদ্দিনকে গ্রেফতারের পরে জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিস্তারিত জানিয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। পরে রাইজ উদ্দিনের দেয়া তথ্য অনুযায়ি তার বসতবাড়ির মুরগীর খোয়ার হতে ৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও ঘরের ভিতর থেকে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আসামীর দেখানো জায়গা ধান খেতের আইল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। যে লুঙ্গি ও শার্ট পড়ে হত্যা করা হয়েছে আলামত হিসেবে সেই লুঙ্গি ও শার্টও উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাত ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভাল্লুককান্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের বাসিন্দা আল আমিনের স্ত্রী লাকী বেগম (২২) এবং তাদের মেয়ে আলিফা (৪)। নিহত লাকীর বাবার বাড়ি সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। ওই দিনই নিহত লাকির বাবা হাসমত আলী বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

Related Articles