গোপালপুরে আ’লীগে অনুপবেশকারি নেতার বহিস্কার ও শাস্তি দাবি


গোপালপুর প্রতিনিধি: দলে অনুপ্রবেশকারি আখ্যা দিয়ে হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম নিক্সনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গোপালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মুক্তিযোদ্ধারা।
শনিবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, হাদিরা ইউনিয়নের আজগড়া গ্রামের রাজাকার আলাউদ্দীন তালুকদারের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম নিক্সন স্বার্থান্বেষি মহলের যোগসাজশে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছেন। তিনি ওই স্বার্থান্বেষি মহলের সহযোগিতায় হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেছেন। সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী বিরোধী লোকজনকে নিয়ে ওই ইউনিয়নে একটি বলয় তৈরি করেন। ওই বলয়ের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার প্রকৃত আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনকে হয়রানি ও নাজেহাল করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয় উক্ত আমিনুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের নাম ভাঙ্গিয়ে ‘রান ভেডেলপমেন্ট সোসাইটি’ নামে একাধিক অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। এসব স্কুলে দুই শতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষকের কাছ থেকে এমপিও ভুক্তির নামে বিপুল পরিমান টাকা আদায় করা হয়েছে। ৫/৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এসব স্কুল জেলা বা উপজেলা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক আজ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এমনকি এসব স্কুলে পাঠদানের অনুমোদনও পায়নি। এভাবে তিনি দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এভাবে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং সরকারি দলের ইমেজ ক্ষুন্ন করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে রোজগার করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌরমেয়র রকিবুল হক ছানা, উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার গিয়াস উদ্দীন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান, উপজলো যুবলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সোহেল, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্মসম্পাদক আলমগীর কবীর রানা প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম নিক্সনকে দল থেকে বহিস্কার এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণামূলকভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে আমিনুল ইসলাম ওরফে নিক্সনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বাবা কখনোই রাজাকার ছিলেন না। এটি সম্পুর্ন বানোয়াট। অপপ্রচার। অটিস্টিক বিদ্যালয় স্থাপন করে কারো নিকট থেকে তিনি কোনো টাকা পয়সা নেননি। তার নিজ দলের একটি মহল তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

Related Articles