সরিষা ফুলে মধু সংগ্রহে লাভবান উভয় চাষি

বিশেষ প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইলে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। সরিষার এসব জমির পাশেই মৌ চাষের বাক্স বসিয়েছেন মৌ চাষীরা। এতে মৌ মাছির মাধ্যমে সরিষা ফুলের পরাগায়নে সহায়তা হচ্ছে। ফলে একদিকে সরিষার উৎপাদন বাড়ছে, অপরদিকে মধু আহরন করা যাচ্ছে। সমন্বিত এই চাষে সরিষা চাষি ও মৌ চাষি উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। কৃষক যেমন এই মাঠে সরিষার পরিচর্যা করছে, তেমনি ক্ষেতের পাশেই মৌ মাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছে মৌ চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলার এ বছর ৪১ হাজার ৫০৭ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব ক্ষেতের পাশে প্রায় তিন হাজার মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এই বাক্স থেকে এবার একশ টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কৃষি বিভাগ।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা গ্রামে একশ সাতটি বাক্স বসিয়েছেন সাতক্ষীরার মিলন সরদার ও মনিরুল ইসলাম। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের জোগাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সরিষা ক্ষেতের পাশে একশ মৌচাষের বাক্স স্থাপন করেছেন মতিয়ার রহমান। সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা থেকে তিনি এসেছেন মধু সংগ্রহে। এই বাক্স থেকে পাঁচ থেকে সাত মন মধু সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন। নাগরপুর উপজেলার ধলেশ্বরী শামছুল হক সেতুর পাশে একশ ২০টি বাক্স বসিয়ে মধু আহরন করছেন একই জেলার আব্দুর রহমান।

এসব চাষীরা জানান, সাতক্ষীরা থেকে টাঙ্গাইল অঞ্চলে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ১৫ থেকে ২০জন মৌ মাছি খামারি এসেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের মৌ চাষিরাও মধু সংগ্রহ করছেন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সন্তোষ গ্রামের আমিনুল ইসলাম আশিটি বাক্স বসিয়েছেন যমুনার চরাঞ্চলের কাতুলী গ্রামে। সংগ্রহ করা মধু ঢাকার বিভিন্ন কোম্পানীর কাছে ১০ থেকে ১৫হাজার টাকা মন দরে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন মধু সংগ্রাহকরা। দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গলিয়া গ্রামে ৩৭টি বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন সাইফুর রেজা। তিনি খন্দকার সোহেলের সরিষা খেতের পাশে বাক্স বসিয়েছেন। খন্দকার সোহেল জানান, সরিষা খেত থেকে মধু আহরন করলে পরাগায়ন হয়। এতে উৎপাদন বাড়ে। তাই তিনি এবং আশেপাশের জমির মালিকরা মৌ চাষিদের উৎসাহিত করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল রাজ্জাক জানান, মৌ মাছি সরিষার ফুলে উড়ে উড়ে বসে মধু সংগ্রহ করে। এতে সরিষা ফুলে সহজে পরাগায়ন ঘটে। তাই দেখা গেছে সরিষা খেতের পাশে মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করলে সরিষার ফলন অন্তত ২০ শতাংশ বাড়ে। সাথে মৌ চাষিরা মধু আহরন করেও লাভবান হতে পারেন।

বেরসকারি উন্নয়ন সংগঠন মৌ চাষ উন্নয়ন সংস্থার (মউস) নির্বাহী পরিচালক আবুল হোসেন জানান, টাঙ্গাইল অঞ্চলে ৭/৮শ’ প্রশিক্ষিত মৌ চাষি রয়েছে। এরা সরিষা খেত থেকে মধু সংগ্রহ করায় সরিষার উৎপাদন বাড়ছে। পাশাপাশি মধু আহরন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে পারছে। মৌ চাষিদের মধু আহরনের প্রশিক্ষনের পাশাপাশি মধু সংরক্ষনের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। সংরক্ষন করতে পারলে মৌ চাষিরা আরো বেশি লাভবান হতে পারবেন।

(এম কন্ঠ/আর.কে/২৭ডিসেম্বর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles