ঘাটাইলে পাহাড় ও ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের মাইকিং

রেজাউল করিম খান রাজু,ঘাটাইলঃ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন লাল মাটির পাহাড় ও ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে মাইকিং শুরু করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার বিধানের নির্দেশনা প্রধান করে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে একযোগে চলছে এই মাইকিং কার্যক্রম।

দিন দিন কমে যাচ্ছে ঘাটাইল উপজেলার আবাদী জমির পরিমাণ। ইটের ভাটা স্থাপন, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন, নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্নভাবেই হ্রাস পাচ্ছে দুই এবং তিন ফসলি জমি। অন্যদিকে ইটের কাঁচা মাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি।

উপজেলার মোট ৪৫১.৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একতৃতীয়াংশই হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চল। এরই মধ্যে গড়ে ওঠেছে ৬০ টি ইটভাটা। জিকজ্যাগ পদ্ধতিতে তৈরি করা এসব ভাটা সব গুলোই স্থাপন করা করা হয়ে ফসলি জমির উপর। ভাটা মালিক সূত্রে জানা যায় এ পদ্ধতিতে একটি ভাটা করতে গেলে সর্বনিম্ন প্রায় ১০ একর জমির প্রয়োজন হয়। অর্থ্যাৎ ৬০ টি ভাটা স্থাপনে প্রায় ৬ শ’ একর ফসলি জমি চলে গেছে।

ভাটাগুলোর খোরাক জোগাতে ক্রমেই কমে যাচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি। বছরে একটি ভাটা ইট পোড়ায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ। এ পরিমাণ ইট তৈরিতে কত ঘনফুট মাটি লাগে এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাটার একজন ম্যানেজার বলেন, আমরা ঘনফুটের হিসাব রাখিনা। এতটুকু বলতে পারি তিন বিঘা জমিতে ৯ থেকে ১০ ফুট গর্ত করলে যে পাটি পাওয়া যায় তা দিয়ে এক মৌসুম চলে যায়। ভাটার মৌসুমে শুরু হলে চলে মাটির বেচা কেনার প্রতিযোগিতা। এক বিঘা জমির মাটি বিক্রে করলেই একজন অভাবী কৃষক পায় প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা। অনেকেই আবার অর্থের লোভে পড়ে অপরিকল্পিতভাবে খনন করছেন পুকুর। এসব অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধে উপজেলায় মাইকিং শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জানুয়ারি উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের কুশারিয়া গ্রামে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি মাটির কাটার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে নগদ এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর যুগ্ন সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে জমি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। এ কাজ অব্যহত থাকলে জমিতে ফসল উৎপাদন কম যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, পাহাড় কাটা ও ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়টি গুরত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। মাটি কাটা বন্ধে সবার সহযোগিতা লাগবে। যেখান থেকেই মাটি কাটার খবর আসবে সেখানেই গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে জরিমানা এবং সাজা প্রদান করা হবে।

(মজলুমের কণ্ঠ/২৫জানুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles