বাড়ির ভাড়াটিয়াকে পেটানোর দায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইলে ভাড়াটিয়া নারী খুশি বেগম (৪৮)কে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের শিমুলতলী বাসা থেকে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা হলেন, বাসার মালিকের ছেলে রনি, রুবেল, মেয়ে চাঁদনী ও রনির স্ত্রী শিউলী।

ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বাসা ভাড়ার টাকা নিয়ে মধ্যবয়সী নারীকে পেটানোর অভিযোগ উঠে। এঘটনায় খুশি বেগমের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর শিমুলতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চানজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।’

অভিযোগের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের শিমুলতলী মান্নান উকিলের বাসায় খুশি বেগম, সাজেদা বেগমসহ চার মহিলা বাসা ভাড়া করে থাকতেন। গত তিন মাস আগে সাজেদা বেগমসহ দুজন পালিয়ে যায়। পরে খুশি বেগমের বাসা ভাড়া দিতে কষ্ট হওয়ায় মান্নান উকিলের বাসা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত মাসে বাসা ছেড়ে দেওয়ার সময় খুশি বেগমের কাছে বাসা ভাড়ার টাকা দাবি করেন রনি। তিন হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেন খুশি বেগম। বাকি এক হাজার টাকার পরিবর্তে খুশি বেগমের টিভি রেখে দেয় রনি। গত ২৮ জানুয়ারি খুশি বেগম রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভাড়ার অবশিষ্ট টাকা দাবি করেন রনি। টাকা দিতে না পারায় রনি, তার ভাই রুবেল, বোন চাঁদনী ও রনির স্ত্রী শিউলী তাকে চুল ধরে টেনে ছেছড়ে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। কক্ষের দরজা বন্ধ করে খুশি বেগমকে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে খুশি বেগম থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার সনদ আনতে পাঠায় পুলিশ। হাসপাতাল থেকে খুশি বেগম সনদ আনার সময় তার হাতে থাকা সনদ ছিনিয়ে নেয় রনিসহ ৭/৮ জন লোক। তারপরও কৌশলে হাসপাতালের নার্সের সহযোগিতায় কিছু ঔষধ লিখে নিয়ে চলে আসেন। পরে ২৯ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সদর থানায় তিনি একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

মারধরের শিকার খুশি বেগম বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমাকে তারা অনেক মারধর করছে। আমার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়ে আছে। সম্পূর্ণ শরীর ব্যাথা করছে। আমি খুব আতঙ্কে শহর দিয়ে চলাচল করছি। তারা পেলে আমাকে আবার মারধর করবে।’

(মজলুমের কণ্ঠ/৩১জানুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles