মধুপুর-ধনবাড়ীতে ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা নষ্ট

মধুপুর-ধনবাড়ীতে ঘন কুয়াশায়  বোরো বীজতলা নষ্ট

ধণবাড়ী প্রতিনিধি

শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশায় টাঙ্গাইলের মধুপুর-ধনবাড়ীত নষ্ট হয়ে গেছে বোরো ধানের বীজতলা। তাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ উপজেলার কৃষকরা। চলমান শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশার কারণে উপজেলার বিভিন্ন বোরো ধানের বীজতলা বিবর্ণ ধারণ করে চারা পচে যাওয়ায় চারার ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে চারা রোপণ শুরু হওয়ায় এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলার কয়ড়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের কৃষক নূরুল হক, বাদশা মিয়া, আনিছুর রহমান জানান, এবার শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার কারণে বীজ বপণের সময় থেকেই চারাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে বীজতলায় যে চারা (জালা) রয়েছে সেগুলোও তেমনটা সুস্থ্য ও সবল নয়।

কৃষকরা আরো জানান, ৫ কেজি ধানের চারা ৫‘শ থেকে ৭‘শত টাকায় কেনা-বেচা হতো। অথচ সেই ৫ কেজি ধানের চারা এবার জাতভেদে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় কেনা-বেচা হচ্ছে। কৃষক আ. রশিদ, মো. শাহজাহান আলী ও সোলাইমান জানান, আমাদের প্রতিবারই ধান আবাদ করে লোকসান গোনতে হয়। ধান আবাদ করে প্রতি বিঘায় যে খরচ হয়। ধান বিক্রয় করে তার অর্ধেক খচর পাওয়া যায় না। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে এবারের বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার কারণে চার/পাঁচ গুন দাম দিয়ে ধানের চারা (জালা) কিনতে হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শীতের কবল থেকে বীজতলা রক্ষা করতে কেউ কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিয়েছেন। তাতে করে শীতের কবল থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে।

এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে উপজেলার কিছু বীজতলা সাদা বর্ণ ধারণ করে কোল্ড ইনজুরির কবলে পড়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেক বীজতলা ঠিক হয়ে যাচ্ছে। ঘন কুয়াশা কেটে গেলে ৩/৪ দিন রোদ থাকলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবার ধনবাড়ী উপজেলায় বোরো ধান চাষের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১০ হাজার হেক্টরের উপরে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং সে প্রেক্ষিতে এবার ৪৮০ হেক্টরে বীজতলা তৈরী করা হয়েছে।

(মজলুমের কণ্ঠ/৩০জানুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles