শিক্ষায় অসঙ্গতি:০২- সাফল্যের সাথে প্রচারণার মিল কতোটুকু ?

শিক্ষায় অসঙ্গতি:০২- সাফল্যের সাথে প্রচারণার মিল কতোটুকু ?

।।রেজাউল করিম।।  

কে না জানে? প্রচারে প্রসার। এমন ভাবনা সবার। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। লোভনীয় সব অফার আর মূখরোচক বানীরে সমন্বয়ে প্রচার-প্রচারণা দেখে সাধরাণ ছাত্রছাত্রীস অভিভাবকরা পড়ে গোলক ধাদায়। কোথায় ভর্তি করাবে আদরের সন্তানটিকে এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে অধিকাংশ অভিভাবক।

শিক্ষকতা পেশাকে সবাই শ্রদ্ধা করে। কে জানে শিক্ষকতাও এখন ব্যবসার মতো একটি লাভজনক পেশা। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রাপ্ত হলে সেটা হয় প্রাইভেট পড়ানোর আরেকটি সাইনবোর্ড । এই চাকরির সনদ দেখিয়ে অধিকাংশ শিক্ষক জড়িয়ে পড়ে প্রাইভেট পড়ানোতে। স্কুল আওয়ারে স্কুলে থাকলেও লম্ভা সময় প্রাইভেট পড়িয়ে কতোটুকু শক্তি থাকে দেহে। অন্যদিকে প্রাইভেট না পড়লে তখন শিক্ষার্থীর ওপর অনেকসময় দ্বিমুখী আচরণ হয় ওই শিক্ষকের। প্রাইভেট ছাত্রছাত্রীর সার্থে কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে, কেউ পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়িয়ে দিচ্ছে আবার কেউ পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রশ্নের উত্তর সরবরহ করবে অলিখিত এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছে। নির্বচনী পরীক্ষার আগে এমন শিক্ষকদের কক্ষে শিক্ষার্থী থাকে বেঞ্চ ভরা। ভেবে দেখা দরকার, এমন শিক্ষকদের কাছ থেকে ছেলেমেয়েরা কতোটুকু শিক্ষা পাচ্ছে । অসুদপায় অবলম্বন করিয়ে পাস করালেও জ্ঞানের ছাপ থাকে না সনদ পত্রে। অথচ ‘সরকারি শিক্ষক’ এই প্রচারণায়ই তারা থাকেন একধাপ এগিয়ে।

এদিকে বেসরকারি স্কুল, কোচিং বা কেজি স্কুলগুলো এমনভাবে পরীক্ষার ফলাফল প্রচার করে থাকেন যা দেখে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পড়ে যায় লোভে। মুখরোচক বিজ্ঞাপন দেখে আটকে যায় শিক্ষার্থীরা। প্রায়ই লক্ষ করা যায় পরীক্ষার্থীর চেয়ে এ প্লাসের (এ+) সংখ্যা বেশি দেখানো হয়। কিছুদিন আগে লক্ষ করলাম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাইকিংয়ে বলা হচ্ছে জেএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো ৪৪ জন। এর মধ্যে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে ৪০ জন। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো কোন এ প্লাস (এ+) পায়নি। প্রায়ই প্রতিষ্ঠানের সার্থে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তালিকা দেখানো হয় না। পিইসি ও জেএসসি মতো পরীক্ষায়ও অকৃতকার্য হচ্ছে শিক্ষার্থী। অথচ প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে শতভাগ পাস।

 

এক কথায় বোঝতে চাচ্ছি প্রচারণার সাথে ফলাফলের মিল আছে কিনা সেগুলো বিভাগীয়ভাবে ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষার্থী ভর্তির পূর্বে এসব লোভনীয় প্রচারণায় বিশ্বাস না করে খোঁজ নিয়ে জানতে হবে আসলে তাদের ফলাফল কি। ফলাফল জানতে স্থানীয় সব শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও নিশ্চিত হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বলব আজকের শিশু আগামীদিন আমাদের জাতিকে পথ দেখাবে। সেই পথ প্রদর্শকদের জীবনের শুরুতে বিব্রত করবেননা। এদেরকে সুশিক্ষা দিন। রেজাল্ট ভালো করার চেষ্টা করুন। ভালো রেজাল্ট না হয়ে থাকলে অন্যভাবে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন। অহেতু মিথ্যে প্রচারণা করে কাওকে বিব্রত করবেন না। অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ সন্তানের জীবন একটাই। এ জীবনকে সার্থক করতে হলে প্রতিটি পদক্ষেপ আপনাকে ভেবে নিতে হবে।

লেখক :  শিক্ষক ও সংবাদকর্মী

e-mail: improveedu2000@gmail.com

Related Articles