শিক্ষায় অসঙ্গতি -০৩: শিক্ষার সাথে কর্মের সামঞ্জস্য প্রয়োজন

শিক্ষায় অসঙ্গতি -০৩: শিক্ষার সাথে কর্মের সামঞ্জস্য প্রয়োজন

।।রেজাউল করিম।।

জীবনের প্রায় ২৫ বছর কেটে যাওয়ার পর মেলে শিক্ষার সর্বশেষ সনদ। এরপর শুরু হয় চাকরির জন্য দৌড়। প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণের জন্য সনদটা কাজে লাগালেও টিকে থাকার যুদ্ধে সনদ যথেষ্ট নয়। শিক্ষাজীবনের বেশি সময় কেটে যায় চটি বই মুখস্থ করে। পাশে থাকে কিছু গাইড বই। যা কর্মজীবনের প্রথম সাক্ষাৎকারে কোন কাজে আসে না।

 

কর্মজীবনের জন্য নিতে হয় নতুন করে প্রস্তুতি। যা শিক্ষা জীবনে অনেক সময় অর্জন হয় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে চর্চার মাধ্যমে সেই জ্ঞানটা অর্জন করতে হয়। কিন্তু কেন ? শিক্ষার সাথে কর্মের সামঞ্জস্য থাকলে এ জ্ঞান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই পাওয়া সম্ভব হতো। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন লক্ষ নির্ধারণ করা উচিৎ যাতে শিক্ষা জীবনে যা শিখবে কর্ম জীবনে তা প্রয়োগ করার সুযোগ থাকে। অথবা কর্ম জীবনে যা প্রয়োজন হবে নিয়োগের সময় ওই বিভাগের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হবে।

কর্মমমূখী শিক্ষার কথা বলছি না। বলছি সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার কথা। শিক্ষা জীবনে  কম্পিউটারের ওপর কোন পাঠ্য বই নেই। তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি  (আইসিটি) পাঠ্য থাকলেও কর্মজীবনে কোন কাজে আসেনা। চাকরির পরীক্ষায়  বাস্তবমুখী কম্পিউটার শিক্ষা প্রয়োজন। দেখাতে হবে টাইপিং স্পিড। যা কখনও একাডেমিক শিক্ষায় পাওয়া যায় না। অথচ অফিস কোর্সটি (সার্টিফিকেট) মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের যেকোন শ্রেণিত সম্পন্ন করা সম্ভব। চাকরির পরীক্ষা যেভাবে নেওয়া হয় পাঠ্যের আইসিটি সেক্ষেত্রে কোন কাজে আসে না।

 

আসা যাক সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধারণ জ্ঞানের কোন পাঠ্য পুস্তক নেই। যদি কি  প্রাইভেট স্কুলে (কেজি)সল্পপরিসরে সাধারণ জ্ঞান পড়ানো হয়। প্রথমত এই প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে সাধারণ জ্ঞান আয়ত্ব চর্চা করার সুযোগ পায়না। কারন মাধ্যমিক বা উচ্চ বিদ্যালয়ে সাধারণ জ্ঞান হিসেবে কোন পাঠ্য বই নেই। যেহেতু চাকরীর পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করা হয় সেক্ষেত্রে পাঠ্যেও সাধারণ জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

 

ইংরেজিতে কথা বলতে না পারাটা অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞতার সামিল। ইংরেজিতে কথা বলাটা বর্তমান সমাজে শুধু স্মার্টনেসই না আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে এটা প্রয়োজনও। অথচ স্পোকেন ইংলিশ হিসেবে কোন পাঠ্য বই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত নেই।

 

আসা যাক অন্য দিকে। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়ালেখা করে ভর্তি হচ্ছে প্রাইভেট প্যারামেডিক কোর্সে। অথচ এখানে বিজ্ঞান বিভাগ জরুরী ছিলো। মানবিক বিভাগে পড়া লেখা করে চাকরি করছে ব্যাংকে। যেখানে ব্যবসায়িক শিক্ষা বিভাগ জনরুরী ছিলো। এদিকে ব্যবসায়িক শিক্ষা বিভাগে পড়া লেখা করে চাকরি করছে ওষধ কোম্পানিতে। যেখানে শুধু বিজ্ঞান বিভাগ নয় জরুরী ছিলো রসায়ন বিষয়ের। অথচ বিষয় বা বিভাগ ভিত্তিক পড়ালেখার সাথে চাকরির সামঞ্জস্য মিলছে না।

 

আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীদের কর্মমূখী শিক্ষা অথবা শিক্ষার সাথে কর্মের সামঞ্জস্য জরুরী।

 

লেখক :  শিক্ষক ও সংবাদকর্মী
e-mail: improveedu2000@gmail.com

 

 

Related Articles