৪৮ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি এম.এ করিম

৪৮ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি এম.এ করিম

মধুপুর থেকে আমিনুল হক :

সারা দেশ বাংকারে বাংকারে ভরা। বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ। একদিকে ট্যাংক কামান। অন্য দিকে নিরস্ত্র বাঙালিদের লাঠি থেকে শুরু করে বন্দুক কামান। চারদিকে বাংলার মানুষ ভয়ে ও আতংকে। নারীরা তাদের ইজ্জত নিয়ে সংকিত। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত মানুষগুলোর জীবন বাঁচানো নিয়ে মরণপ্রাণ লড়াই এমনি একটি পরিবেশ ছিল ১৯৭১ সালের দেশ মাতৃকার জন্য মুক্তিযুদ্ধ। এই স্বাধীকার মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ করিম। মিস ফাইলিং এর কারণে স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। জীবন ছায়াহ্ন্যে এসে তার শেষ আশা হিসাবে সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতির।

তিনি ১৯৪৭ সনের ১১ই নভেম্বর বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের জালিয়া ঘাটা গ্রামের কাজী বংশের জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম কাজী মমিন উদ্দিন। মাতা মরহুমা জেবন নেছা। আঃ করিম ১৯৬৮ সালে ডিগ্রি পাস করেন। ছাত্র জীবনে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

এম.এ করিম জানান, ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চের ভাষণের নির্দেশ শোনে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের নিয়ে তিনি যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। বরগুনা জেলার পাথর ঘাটা উপজেলার ৬নং কাকবিড়া ইউনিয়নের জালিয়া ঘাটা নিজ বাড়ীতেই মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্প স্থাপন করেন। পাকসেনাদের মোকাবেলা করার জন্য তৎকালিন সময়ে যুবসমাজকে সংঘটিত করার জন্য এলাকার আসমত আলী সিদকার প্রয়াত এমপি এ. শাহজাহান আব্দুল মালেক খান প্রয়াত এদের নির্দেশে তৎকালিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম প্রয়াত এর নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে মুক্তিবাহিনী গঠন করার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। ঐ সময় তাদের হাতে কোন অস্ত্র না থাকায় পাকবাহিনীর উপর নজর রাখেন এবং প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান।

১৯৭১ সালের ১৫ মে তৎকালিন পাটুয়াখালী মহকুমার সামরিক আইন প্রশাসক মেজর নাদের পারভেজের নির্দেশে পাথরঘাটার বিষখালী নদীর তীরে ৫/৬ জন লোককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এছাড়া এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লক্ষন দাস, কৃষ্ণ দাস, স্বপন দাস, অরুন দাস সহ আরো কয়েকজনকে পাকসেনারা ধরে এনে বরগুনায় হত্যা করা হয়। ঐ সময় মুক্তিবাহিনীতে তার নামও ছিল। পরে অক্টোবর মাসে তার অস্ত্র স্থানীয়দের হাতে জমা দিয়ে জীবনের নিরাপত্তার জন্য নিজ এলাকা ছেড়ে সিলেটের বাহুবল থানার তার বন্ধুর বাড়ীতে গিয়ে উঠেন। বাহুবলের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দেখা করেন। পরে ৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর কে.এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে স্থানীয় কমান্ডার জালাল উদ্দিনের সাথে সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সনদ এবং অফিস আদেশের কাগজ ২টি মিস ফাইলিং হয়ে হারিয়ে যাওয়ার কারণে সরকার কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের গেজেট প্রকাশের জন্য বিভিন্ন সময় সুযোগ দেয়া হলেও মিস ফাইলিং এর কারণে তিনি গেজেট ভুক্ত হতে পারেনি।

মধুপুর গড় অঞ্চলে চাকুরীর সুবাদে এসে উপজেলার মধুপুর পৌরসভার টেংরী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি টাংগাইলের মধুপুরে বসবাস করছে। তার জীবনের শেষ আশা দীর্ঘ ৪৮ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দাবী জানিয়েছেন এম.এ করিম।

(মজলুমের কণ্ঠ/১৮জানুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles