এখনও ভক্তদের অন্তরে-অন্তরে সালমান

নিউজ ডেস্ক:

ঢাকাই ছবির ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। সালমান ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে। মাত্র ২৫ বছরের জীবন পেয়েছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে রাজত্ব করেন চার বছর। উপহার দিয়েছেন ২৭টি ছবি। তার গ্ল্যামার, স্টাইল, অভিনয় দক্ষতায় হয়ে উঠেন সবার প্রিয় নায়ক। এতটাই ফ্যাশন সচেতন ছিলেন যে, চলে যাওয়ার দুই যুগ পরও বাংলাদেশের কোনো নায়ক তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে সালমান ও মৌসুমীর প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ উপহার দেন। প্রথম ছবিতেই পেয়ে যান আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। সালমান শাহকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সালমানের ছবি মানেই ছিল দর্শকের হলে উপচেপড়া ভিড়। কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে লেখা আছে অমর নায়ক সালমান শাহর নাম।

১৪টি ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন নায়িকা শাবনুরের সঙ্গে। রাজ্জাক-কবরী জুটির পর সালমান-শাবনুর জুটিই এ দেশের দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে এখনো রয়ে গেছে। শাবনুর ছাড়াও মৌসুমী, শাহনাজ, লিমা, কাঞ্চি, শাবনাজ, বৃষ্টিসহ কয়েকজন নায়িকার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন। রোমান্টিক ছবিতে বেশি কাজ করলেও তার চরিত্রগুলোতে বৈচিত্র্য ছিল দেখার মতো। কখনো ছাত্রনেতা, কখনো প্রতিবাদী যুবক, কখনো গ্রামের ছেলে, কখনো প্রেমের জন্য ঘরছাড়া তরুণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

সালমানের সিনেমায় শুধু অভিনয় আর ফ্যাশন নয়, গানও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। তার প্রতিটি সিনেমাই ছিল দারুণ সব গানে ভরপুর। বাংলা চলচ্চিত্রে এখন যারা কাজ করছেন, তাদের অনেকেই বলেন সালমান তাদের আইডল, তাকেই অনুসরণ করেন তারা। বলবেই না বা কেনÑ আধুনিকতা, ফ্যাশন, স্টাইলে সময়ের চেয়েও এগিয়ে থাকা নায়ক একজনই ছিলেন ঢালিউডে। অভিনয়গুণে আর ফ্যাশন সচেতনতায় হয়ে উঠেছিলেন কোটি তরুণীর স্বপ্নের পুরুষ। চলচ্চিত্রে নিজের পছন্দের পোশাকই পরতেন তিনি।

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে থাকা মৃত্যুরহস্য। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত করে জানিয়েছে সালমান আত্মহত্যা করেছেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদর্শন নায়ক সালমান। সালমান নেই এটিই সত্যি। তিনি বেঁচে থাকবেন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের ভেতর। সালমান বেঁচে থাকবেন অগণিত মানুষের অন্তরে।

(মজলুমের কণ্ঠ/২৫ ফেব্রুয়ারি/আর.কে)

 সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles