করোনাভাইরাস রোধে মাস্ক কতটুকু কার্যকরী

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নতুন আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। মানুষের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসে চিনে নতুন করে আরও শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।

ভাইরাসটির শনাক্তস্থলে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন বাসিন্দারা। কেবল তাই নয়, চিনের সীমানা পেরিয়ে ভাইরাসটি এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আরও অন্তত ২০টি দেশে।

চিনে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪২৬ জনে। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশেই ৩৪৯ জন। নতুন করে ৩ হাজারেরও বেশি ব্যক্তির দেহে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করছেন। ভয়াবহ এই ভাইরাস ঠেকাতে কতোটুকু কার্যকারী এই মাস্ক?

সাধারণত বায়ু দূষণ থেকে বাঁচতে ব্যবহার করা হয় নাক ও মুখ ঢাকা এই মাস্ক। তবে বায়ুবাহিত ভাইরাস ঠেকাতে সেগুলো কার্যকর তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ হয়েছে ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের।

কিন্তু এর অন্য একটি সুবিধা আছে, তা হলো মুখে মাস্ক পরা থাকলে, হাত থেকে মুখে জীবাণুর বিস্তার ঘটতে পারে না।

বাতাসে থাকা ভাইরাস ও ব্যকটোরিয়া ঠেকাতে সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্কের ব্যবহার যথেষ্ঠ না, কারণ সেগুলো খুবই ঢিলেঢালা, কোনো এয়ার ফিল্টার থাকে না এবং চোখ খোলা থাকে।

সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্কগুলো পরা থাকলে হাঁচি বা কাশি দিলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং হাত থেকে মুখে জীবাণুর বিস্তারে কিছুটা নিরাপত্তা দেয়।

২০১৬ সালে করা এক জরিপে দেখা যায়, মানুষ প্রতি ঘণ্টায় কমবেশি ২৩ বার তার মুখমণ্ডলে স্পর্শ করে।

ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের মলিকিউলার ভাইরোলজির অধ্যাপক জোনাথন বল জানান, ‘হাসপাতালের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে সাধারণ মাস্ক বিশেষভাবে উন্নত প্রযুক্তির এয়ারফিল্টার লাগানো রেসপিরেটরের মতোই ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ন্ত্রণে ভালোভাবে কাজ করে।

কিন্তু সাধারণ পরিবেশে মানুষের মধ্যে চালানো নানা পরীক্ষা দেখা যায়, এই মাস্ক ব্যবহারের ফল অতটাও কার্যকরী না।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে টানা মাস্ক পরে থাকা আসলেই একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।’

এ বিষয়ে ইংল্যান্ডের পাবলিক হেলথ বিভাগের ডা. জেক ডানিং বলেন, ‘যদিও এমন ধারণা আছে যে ফেস মাস্ক পরা উপকারী হতে পারে, তবে ক্লিনিক্যাল পরিবেশের বাইরে এগুলো থেকে বেশি উপকার পাওয়ার খুব কম প্রমাণ আছে।’

তিনি আরো বলেন, মাস্ক সঠিক নিয়মে পরতে হবে, সময়মতো পরিবর্তন করতে হবে এবং ফেলে দেওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে।

(মজলুমের কণ্ঠ/৬ ফেব্রুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles