কেন্দ্র পাহারার কথা বলে বিএনপি কোথায় ছিল, প্রশ্ন আমুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির এজেন্টরা কেন্দ্রে না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘বিএনপি প্রার্থীরা বলেছিলেন, তারা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন, তারা সব দেখবেন। কিন্তু আজকে তাদের দেখা যায়নি। তার মানে তারা তাদের এই কথা প্রমাণ করতে পারবেন না বলে তারা আত্মগোপন করেছেন। তারা নিজেদের ভরাডুবি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই সরে গেছেন।’
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভোট-পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, ‘ভোট নিয়ে আমাদের অনেকে অনেক কথা বলেছেন। আমাদের প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বলা হয়েছে। এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা অনেক অজুহাত দেখিয়েছিল, উসকানির চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমাদের দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অক্ষরে অক্ষরে দায়িত্ব পালন করে একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীরা বলেছিলেন, তারা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন, তারা সব দেখবেন। কিন্তু আজকে তাদের দেখা যায়নি। এর মানে তারা তাদের এই কথা প্রমাণ করতে পারবেন না বলে তারা আত্মগোপন করেছেন। তারা নিজেদের ভরাডুবি বুঝতে পেরেছিল বলেই সরে গেছেন। তারপরও তাদের ভোট পড়েছে। সবাই সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়েছে। কোনও ভোটারকে বা কোনও এজেন্টকে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়নি। এজেন্টদের বের করে দিলে কেন্দ্রে হইচই হতো, কিন্তু তা হয়নি।’

ভোটার উপস্থিতি কম থাকার কারণ তিনি আমু কয়েকটি কারণের কথা বলেন। তাদের ধারণা, ভোট পদ্ধতির পরিবর্তন, দীর্ঘ ছুটির কারণে ঢাকায় ভোটারদের বাড়িতে যাওয়ায, যানবাহনের অপ্রতুলতা এবং অসুস্থতার কারণে অনেকে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি।

ইভিএম প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল ভোটাররা কেন্দ্রে এসে সেই আতঙ্ক দূর করেছেন। বুঝিয়ে দিলেন ইভিএম-এ ভোট দেওয়া যায়, এটা আজ প্রমাণিত। ইভিএম-এ যে ভোট চুরির সুযোগ নেই সেটাও প্রমাণিত।’

এসময় বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সুতরাং সব নির্বাচনের আগেই তারা কাল্পনিক কিছু তথ্য জনসম্মুখে আনে এবং সেই কাল্পনিক তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত এবং ভোট ব্যবস্থাকে বিকৃতির চেষ্টা করে।’
এটি গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, ‘সুতরাং তারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’ তাই সবাইকে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান সিরাজ, রুহুল আমিন, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের আহমেদসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

(মজলুমের কণ্ঠ/১ ফেব্রুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles