ঘাটাইলে সাংবাদিকের ওপর হামলায় মামলা

ঘাটাইল প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় ঘাটাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাংবাদিক খান ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলীকে একমাত্র আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর- ০৪ (১৫/২/২০২০)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য যুগান্তর ঘাটাইল প্রতিনিধি খান ফজলুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে ইউএনওর সাথে সংবাদ বিষয়ক কথা বলার সময় ২নং ঘাটাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দর আলী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার উপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেন।

মামলার বিবরণ থেকে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে ২নং ঘাটাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দর আলী ইউনিয়নটির নিয়ামতপুর-খিলপাড়া সরকারি রাস্তার দু’পাশের শতাধিক গাছ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় অনৈতিকভাবে বিক্রি করেন। এই গাছ বিক্রি করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান সরকারি কোন টেন্ডার আহব্বান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষর নিকট থেকে কোন ধরনের অনুমতিপত্র গ্রহণ করেননি। ইউপি চেয়ারম্যান এভাবে সরকারি গাছ বিক্রি বা বিক্রির কোন অনুমোদন তিনি দিতে পারেন কিনা- সে বিষয়ে উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে ইউএনওকে সাংবাদিক খান ফজলুর রহমান জিজ্ঞাসা করেন। ইউএনও তখন উত্তরে সাংবাদিকদের জানান, এভাবে কোন অনুমোদন ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রাস্তার সরকারি গাছ বিক্রি করতে বা বিক্রয়ের কোন অনুমোদন দিতে পারেন না।  সে সময় ইউএনও আরও জানান, এমন একটি অভিযোগ আমার কাছে আসায় আমি তাৎক্ষনিকভাবে তহশিলদার পাঠিয়ে গাছ কাটা ও বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ করে দেই। সে সময় ইউএনওর উত্তর শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলী ইউএনওর সামনেই সাংবাদিক খান ফজলুর রহমানের উপর অতর্কিতভাবে হামলা করে আহত করেন।

আহত সাংবাদিক খান ফজলুর রহমান পরে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

জানা যায়, সাংবাদিকের উপর ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা সহ অন্যান্য সাংবাদিক বৃন্দ। এছাড়াও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান, রবিউল আলম বাদল, উত্তম আর্য্য সহ অন্যান্য সাংবাদিক বৃন্দ।

অপরদিকে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ,  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হেস্টিংস, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান আজাদ সহ অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ।

(মজলুমের কণ্ঠ/১৫ ফেব্রুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles