জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ‘মহান শহিদ দিবস’ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জেনেভা :

যথাযোগ্য মর্যাদায় জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ‘মহান শহিদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ২০২০ উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে জেনেভাস্থ জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন।

দুপুরে জেনেভাস্থ জাতিসংঘ অফিসের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহন করে।সন্ধ্যায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতাবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালনকরা হয়। অতঃপর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন ইকোনোমিক মিনিস্টার আল আমিন প্রামানিক, প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কমার্শিয়াল কাউন্সেলর দেবব্রত চক্রবর্তী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কাউন্সেলর এমদাদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন প্রথম সচিব (কমার্স) আলমগীর কবির, এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসানের সভাপতিত্বে এবং প্রথম সচিব এ কে এম মহিউদ্দীন কায়েস এর উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে মহান ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।এ প্রেক্ষিতে তিনি উপস্থিত সবাইকে গত ১০ ই জানুয়ারিতে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন এবং ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত বছরব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মিশন কর্তৃক পরিকল্পিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে অবহিত করেন। আলোচনা সভায় সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শ্যামল খান তার বক্তব্যে বলেন আগামী ২২ মার্চ জেনেভাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ। উপস্থিত সকলকে উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান শ্যামল খান।

আরো বক্তব্য রাখেন সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাসুম খান দুলাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মোহাম্মদ মহসিন, মোহাম্মদ মোজাম্মেল, সহ-সভাপতি অরুন বড়ুয়া, মিয়া সাব্বির রনি, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ গোলাম কামরুজ্জামান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক গৌরিচরন সসীম, শাহাদাত হোসেন,বেলাল চৌধুরী প্রমূখ। দিবসটি উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের জন্য এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত আহসান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

পরিশেষে ভাষা শহিদসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী সকল শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং অতিথিদের দেশীয় খাবারে আপ্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্মচারীগণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা এসকল অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

(মজলুমের কণ্ঠ/২৩ ফেব্রুয়ারি/আর.কে)

 সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles