নবম-দশমের প্রস্তুতি

গল্প -মমতাদি

-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

মৌমাছির দাঁড়াবার সময় নাই। মধু আহরণের জন্য শুধু ছুটে বেড়ায়। ফুল থেকে ফুলে উড়াউড়ি করে।

সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকে। মৌমাছি পরিশ্রমী। অনেক দূরে উড়ে চলে যায় মধু আহরণের জন্য।

ক. মমতাদির পরনের শাড়িটি কী ধরনের ছিল?

খ. ‘কাজগুলোকে সে আপনার করে নিল, মানুষগুলোর দিকে ফিরেও তাকাল না’- কেন?

গ. উদ্দীপকের কোন বিষয়টি ‘মমতাদি’ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে? তুলে ধর।

ঘ. ‘নির্দেশের অভাবে কোনো কাজ ফেলে রাখল না’- মমতাদি গল্পের এই উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিচার কর।

উত্তর- ক : মমতাদির পরনে ছিল সেলাই করা ময়লা শাড়ি।

উত্তর- খ : মমতাদির কাছে দায়িত্ববোধটাই প্রধান ছিল, তাই সে কাজটাকেই আপন করে নিয়েছিল। অভাবের তাড়না মমতাদির জীবনটাকে কষ্টে জর্জরিত করে দেয়। তাই মমতাদিকে কাজকেই বেছে নিতে হয়। মমতাদি ছিল কর্তব্যজ্ঞান ও দায়িত্ববোধে ভাস্বর, কাজই ছিল তার প্রধান বিষয়। তার কাছে তাই কাজটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর- গ : ‘মমতাদি’ গল্পে মমতাদি দায়িত্ববোধকে প্রধান বিবেচনা করে কাজকেই গুরুত্ব দিয়েছে যেটি উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে। ‘মমতাদি’ এক বাঙালি নারী। স্বামী এবং সন্তানের জন্য সে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। মমতাদি মাইনে ঠিক করতে জানে না। কিন্তু কাজ সে ঠিকই জোগাড় করেছে। কাজের প্রতি তার কোনো আলস্য নেই। কাজে ফাঁকি দেয়া তার স্বভাব নয়। সবার আগে কাজ তার কাছে বড়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মৌমাছি জীবন সন্ধানে ছুটে চলেছে। কারো কথা শোনার বা দাঁড়ানোর বিন্দুমাত্র সময় তার নেই। বনে ফুল ফুটে আছে তাই তাকে মধু সংগ্রহ করতে হবে। উদ্দীপকে মৌমাছির কাছে যেমন কাজই প্রধান মমতাদির কাছেও তাই। এ জন্য বলা যায় যে, উদ্দীপকের মৌমাছির দায়িত্ববোধ বিষয়টি মমতাদির মধ্যে ফুটে উঠেছে।

উত্তর- ঘ : ‘মমতাদি’ গল্পে মমতাদি যে বাড়িতে কাজ নেয় সেই বাড়ির প্রতিটি কাজ সে নিজ দায়িত্বে সম্পন্ন করে।

আমাদের সমাজব্যবস্থা নানা ক্ষেত্রে মেয়েদের পিছিয়ে রেখেছে। কিছু সমাজিক প্রথা মেয়েদের ঘরবন্দি করে রেখেছে। তবুও তারা তাদের কাজ এবং দায়িত্ববোধ থেকে কখনো পিছপা হয়নি। মমতাদি তার কাজ দিয়ে সেটি প্রমাণ করেছে। স্বামী এবং সন্তানের জন্য সে সংগ্রামে নেমেছে। সে দু’বেলা রেঁধে দেবে কিন্তু খাবে না। কেননা স্বামী এবং সন্তানের জন্য খাবার জোগাড় করে নিয়ে যেতে হবে।

মৌমাছি নেচে বেড়ায় কিন্তু সময় হলে তাকে খাবার জোগাড় করতেই হয়। বনে যখন ফুল ফোটে তখন তার আর বিশ্রাম থাকে না। বনের মধু আহরণে সে বেরিয়ে পড়ে। সময়ের কাজ সব সময়ে সঠিক সময়েই করতে হয়। কাল ও স্রোত কারো জন্য থেমে থাকে না। মমতাদি গল্পে মমতাদি দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। যে কোনো নির্দেশের অপেক্ষা না করে সময় মতো সব কাজ করে ফেলে। উদ্দীপকে মৌমাছিও নিজ কাজ সম্পর্কে সচেত। মৌমাছির এই ব্যস্ততা ‘মমতাদি’ গল্পে মমতাদির ভেতরেও ফুটে উঠেছে।

শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা

সুধীর বরণ মাঝি

শিক্ষক, হাইমচর মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর

মানসিক স্বাস্থ্য ও অবসাদ

সৃজনশীল

১। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী রিতুর ওপর একমাত্র ভাইয়ের পড়ালেখার ও মায়ের চিকিৎসাসহ সংসারের সব খরচ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে। ফলে সকাল-বিকাল টিউশনি করে এবং বাসায় থেকে রাত জেগে দর্জির দোকানের কাপড় সেলাই করে সে অর্থ উপার্জন করে। বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হলে তার মনোবল ভেঙে পড়ে। এতে সে পড়ালেখা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে উৎসাহিত করায় সে আবার পড়ালেখায় ফিরে আসে।

ক) প্রেষণা কী?

খ) শিশুমনে অস্বাভাবিকতার কারণ কী?

গ) রিতুর ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ) রিতুর মানসিক অবস্থা দূরীকরণে কোন বিষয়টি কাজ করছে বলে তুমি মনে কর? যুক্তিসহ উপস্থাপন কর।

ক) উত্তর : প্রয়োজন বা অভাববোধ থেকে প্রেষণার উদ্ভব। প্রেষণা বলতে আমরা এমন কিছু বুঝি যা কাজ করতে উদ্দীপ্ত করে বা শক্তি দান করে। প্রেষণা কাজের প্রতি উৎসাহ জোগায়।

খ) উত্তর : মানসিক অসুস্থতার কারণে শিশুমনে মানসিক বিকৃতির সূত্রপাত হয়। জয়-পরজয়ের স্বাভাবিক ঘটনাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারলে শিশুমনে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয় এবং তার কর্মকাণ্ডে নানারকম অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয় যা শিশুমনে অস্বাভাবিকতার কারণ। সংসারে মা-বাবার কলহ শিশুমনে অস্বাভাবিকতার একটি কারণ। অপ্রত্যাশিত কোনো কিছু ঘটলে শিশুমনে অস্বাভাবিকতার জন্ম নেয়।

গ) উত্তর : উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় রিতুর ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হল বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর একমাত্র ভাইয়ের পড়ালেখার ও মায়ের চিকিৎসাসহ সংসারের সব খরচ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে। ফলে সকাল-বিকাল টিউশনি করে এবং বাসায় থেকে রাত জেগে দর্জির দোকানের কাপড় সেলাই করে সে অর্থ উপার্জন করে। বাবার মৃত্যু এবং সংসারের খরচ পরিচালনার দায়িত্ব, নিজের প্রতি হতাশা ও মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত পড়ালেখা করতে না পারা। নিজের প্রতি এক ধরনের অবহেলা, আত্মবিশ্বাসের অভাব যা তাকে নিয়মিত পড়ালেখা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। ফলে রিতুর পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়।

ঘ) উত্তর : উদ্দীপকের আলোকে বলতে পারি রিতুর মানসিক অবস্থা দূরীকরণে যে বিষয়টি কাজ করছে তা যুক্তিসহ উপস্থাপন করা হল- রিতুর মানসিক অবস্থা দূরীকরণে তার মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উৎসাহ। যা রিতুর মানসিক অবস্থা দূরীকরণে প্রেষণা হিসেবে কাজ করে। প্রয়োজন বা অভাববোধ থেকেই প্রেষণার উদ্ভব, প্রেষণা এমন এক শক্তি যা মানুষের ভেতরকার শক্তিকে জাগিয়ে তোলে, কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, প্রেরণা হিসেবে কাজ করে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে। কাজ করতে করতে বা পরাজয়ের কারণে বা অন্য কোন কারণে যখন মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ অবসাদ দূরীকরণের উপায় হল সঠিক প্রেষণা। যা সে পেয়েছিল তার মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে। পিতার মৃত্যু, সংসারের খরচ পরিচালনার দায়িত্ব, ফলাফল বিপর্যয় ইত্যাদি কারণে রিতুর মানসিক অশান্তি ও অস্তিরতা দেখা। এতে তার মনোবল ভেঙে পড়ে এবং পড়ালেখা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার মা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে তাকে লেখাপড়ার প্রতি উৎসাহ ও প্রেরণা জোগায়। যা তার কাছে প্রেষণা হিসেবে কাজ করে এবং সে আবার লেখাপড়ায় ফিরে আসে।

ভূগোল ও পরিবেশ

দেওয়ান সামছুর রহমান

সিনিয়র শিক্ষক, গোয়ালপাড়া হাইস্কুল, সোনারগাঁ

পৃথিবীর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন

৩১। আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্যগুলো হল-

i. স্ফটিকার ii. অস্তরীভূত iii. জীবাশ্ম দেখা যায় না

নিচের কোনটি সঠিক

ক) i, ii খ) i, iii গ) ii, iii ঘ) i, ii ও iii

৩২। ব্যাসল্ট কী ধরনের শিলা?

ক) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা খ) পাললিক শিলা গ) রূপান্তরিত শিলা

ঘ) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা

৩৩। অন্তঃজ আগ্নেয় শিলার উদাহরণ হল-

i. গ্রানাইট ii. ডলোরাইট iii. রায়োলাইট

নিচের কোনটি সঠিক ক) i, ii খ) i, iii

গ) ii, iii ঘ) i, ii ও iii

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ৩৪-৩৬ নং প্রশ্নের উত্তর দাও

পলি স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে পাললিক শিলা গঠিত হয়। এ শিলায় নানা প্রকার উদ্ভিদ ও জীব-জন্তুর দেহাবশেষ দেখা যায়। জৈবিক, যৌগিক প্রক্রিয়ায় এ শিলা গঠিত হতে পারে।

৩৪। মহাদেশীয় ভূত্বক স্তরের শতকরা কত ভাগ পাললিক শিলা?

ক) ৫৫ খ) ৬০ গ) ৭৫ ঘ) ৮০

৩৫। পাললিক বৈশিষ্ট্যগুলো হল- i. স্তরীভূত ii. জীবাশ্ম দেখা যায় iii. সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত

নিচের কোনটি সঠিক ক) i, ii খ) i, iii গ) ii, iii ঘ) i, ii ও iii

৩৬। কোনটি পাললিক শিলার উদাহরণ নয়?

ক) কেওলিন খ) অ্যান্ডিসাইট গ) কয়লা ঘ) শেল

৩৭। চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?

ক) গ্রাফাইটে খ) স্লেটে গ) মার্বেলে ঘ) কোয়ার্টজাইটে

৩৮। পাললিক শিলা ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ দখল করে আছে?

ক) ৫ ভাগ খ) ৭ ভাগ গ) ১০ ভাগ ঘ) ২০ ভাগ

৩৯। আগ্নেয় ও পাললিক শিলা পরিবর্তিত হয়ে কী শিলায় পরিণত হয়?

ক) অন্তঃজ শিলায় খ) রূপান্তরিত শিলায় গ) স্তরীভূত শিলায় ঘ) প্রাথমিক শিলায়

৪০। বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?

ক) গ্রাফাইটে খ) স্লেটে গ) মার্বেলে ঘ) কোয়ার্টজাইটে

উত্তর : ৩১। ঘ ৩২। ঘ ৩৩। ক ৩৪। গ ৩৫। ঘ ৩৬। খ ৩৭। গ ৩৮। ক ৩৯। খ ৪০। ঘ

(মজলুমের কণ্ঠ/২৭ ফেব্রুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles