সখীপুরে আপেল কুল চাষে তোফাজ্জলের সফলতা

সখীপুরে আপেল কুল চাষে তোফাজ্জলের সফলতা

সখীপুর থেকে এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কাস্মিরি জাতের আপেল কুল চাষ করে প্রথম বছরেই সফল হয়েছেন তোফাজ্জল হোসেন । মাত্র দুই একর জমিতে কুল চাষ করে সব খরচ মিটিয়েও এবছর ১০ লাখ টাকা মুনাফা করবেন তিনি। চারা লাগানোর আট মাসের মাথায় ডালে ডালে প্রচুর পরিমাণে আপেল কুল ধরায় দারুন খুশি তোফাজ্জল। বাংলাদেশে আপেলের চাষ তেমনটা না হলেও আপেলের মতো দেখতে আপেল কুল চাষ করেই আপেলের স্বাদ মেটাচ্ছে এ দেশের মানুষ। তোফাজ্জল হোসেন উপজেলার কচুয়া পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাছেদের ছেলে।

সরেজমিন তোফাজ্জল হোসেনের আপেল কুলের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে প্রচুর কুল ধরেছে। দেখতে ঠিব ছোট সাইজের অস্ট্রেলিয়ান আপেলের মত। আকারে বড় না হলেও স্বাদে ও রঙে আপেলের মতোই। তার বাগানের কুল কিনতে ইতিমধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল থেকে ফল ব্যবসায়ীরা ভীর করছেন। দেখা গেছে তার লাগানো প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২০ কেজি কুল ঝুলে আছে। প্রতি মন কুল তিনি ৪ হাজার টাকা ধরে বিক্রি করছেন। এ পর্যন্ত তাঁর ওই বাগানে চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে । খরচ বাদে তিনি এ বছর ১০ লাখ টাকার লাভ করতে পারবেন বলে তিনি জানান।
কুল চাষি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সংসারে অভাব থাকায় লেখাপড়া তেমন করতে পারিনি। কোনো কাজ না পেয়ে ২০১২ সালে কিছু জমি-জমা বিক্রি করে সৌদি আরব যাই। সেখানে তেমন ভাল করতে পারিনি। বছর খানেক আগে ফেসবুকে বিভিন্ন এলাকায় আপেল কুলের বাগানের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণীত হই। পরে বছরে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে দুই একর জমি ইজারা নিয়ে চুয়াডাঙা থেকে চারা এনে বাগান শুরু করি। প্রথম বছরই তিনি খরচ বাদে ব্যাপক সফলতা বয়ে এনেছেন।

বাগানে কুল কিনতে আসা টাঙ্গালের বেপারী আবদুল কদ্দুস মিয়া বলেন- এ বাগানের কুল সাইজে বড় এবং খেতেও আনেক মিষ্টি। যার ফলে এটির চাহিদা অনেক বেশি দামও ভাল পাওয়া যায়।

সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, সখীপুরের মাটি আপেল কুল, মাল্টা ও আম চাষের জন্য বেশ উপযোগি। কুল চাষে তোফাজ্জল হোসেনের সফলতা দেখে অনেকেই এবার আপেল কুল চাষ করতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। তাদেরকে নানাভাবে আমরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

(মজলুমের কণ্ঠ/১১ ফেব্রুয়ারি/আর.কে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Related Articles